পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: গত সপ্তাহে মণিপুরে যান দিল্লি মহিলা কমিশনের  প্রধান স্বাতী মালিওয়াল। ফিরে এসে তিনি বলেছেন মণিপুরে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা উচিত। রাজ্যে জাতি দাঙ্গার তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি এসআইটি গঠন করা উচিত বলেও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সুপারিশ করেছে দিল্লি মহিলা কমিশন।

সুপারিশে বলা হয়েছে ‘দুই সম্প্রদায়ের মেরুকরণের কারণে পরিস্থিতি এমন হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। এমন অবস্থায় সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অবিলম্বে মণিপুরে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা উচিত।

সুপারিশে বলা হয়েছে প্রশাসনকে এখন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে হবে। যাতে তারার  উভয় সম্প্রদায়ই বিশ্বাস অর্জন করতে পারে।’ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলেও সুপারিশে বলেছে দিল্লি মহিলা কমিশন।

মে মাস থেকে মেইতি-কুকি জাতিদাঙ্গায় জ্বলছে মণিপুর। মেইতিরা মূলত হিন্দু।
অন্যদিকে কুকিরা মূলত আদিবাসী খ্রিষ্টান। মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং নিজেও মেইতি।

নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি তার বিশেষ পক্ষপাতের কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ।  কুকিদের ‘বিদেশি’ বলে নিধনের ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যেমনটা মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে হয়েছিল, সেটাই কুকিদের সঙ্গে করার ছক ছিল বলে অভিযোগ অনেকের।

হিংসা এমন জায়গায় গিয়েছে যে কার্গিল যোদ্ধার স্ত্রীকেও ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের পর দুই কুকি মহিলাকে নগ্ন করে প্যারেড করানোর  ভিডিয়ো সামনে আসার পর থেকে তোলপাড় হয়ে উঠেছে দেশ-বিদেশ।

দিনের পর দিন গোটা মণিপুর জুড়ে তাণ্ডব চলেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে সব  খবর সামনে আসেনি। বর্তমানে হাজার হাজার মানুষ বাস করছে শরণার্থী শিবিরে। সেই শিবিরগুলোর অবস্থাও যে ভালো, তা নয়।