সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণ জানাতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভে ফুঁসছেন তালিকা থেকে বাদ পড়া লক্ষ লক্ষ ভোটার।

অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের শুনানিতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম -এর সামনে শুনানির সময় বারবার নাম বাদ যাওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলেও কমিশনের তরফে সন্তোষজনক কোনও জবাব দেওয়া যায়নি।

এতে আদালতও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

প্রথম পর্যায়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় কিছু সাধারণ কারণ (যেমন মৃত, স্থানান্তরিত ইত্যাদি) জানানো হলেও, চূড়ান্ত তালিকা বা সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ কখনওই জানানো হয়নি। অথচ সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল— কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার আগে তাকে কারণ জানানো বাধ্যতামূলক।

এদিকে, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের মামলায় এই সমস্যা আরও সামনে আসে।

বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁর নাম বাদ পড়ায় আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ট্রাইবুনাল তাঁর পক্ষেই রায় দেয়।
আইনি মহলের একাংশের মতে, যাচাই প্রক্রিয়ায় অপরীক্ষিত এআই-নির্ভর সফটওয়্যার ব্যবহারের কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে কমিশনের পক্ষেও এখন নির্দিষ্ট কারণ দেখানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কমিশনের এই অবস্থান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।