পুবের কলম প্রতিবেদক: প্রতি মাসে অন্তত ৬০টি করে ছানি অপারেশন করতে হবে প্রতিটি চিকিৎসককে। চোখের আলো প্রকল্পে রয়েছে এমনই টার্গেট। তবে, কোনও কোনও মাসে এই টার্গেটের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি অপারেশন-ও করে ফেলছেন কলকাতায় অবস্থিত রিজিওন্যাল ইনস্টিটিউট অফ অফথ্যালমোলজি (আরআইও)-র এক চিকিৎসক। তিনি একা নন। কলকাতার এই হাসপাতালের অন্য আরও দুই চিকিৎসক-ও টার্গেটের দুই গুণেরও বেশি অপারেশন করছেন কোনও কোনও মাসে। আর, এরই জেরে চোখের আলো প্রকল্পে সব থেকে বেশি সংখ্যক ছানি অপারেশন করে, তালিকায় থাকা রাজ্যের প্রথম ছয় জন চিকিৎসকের মধ্যে তিন জনই এই আরআইও-র।
এ দিকে, শুধুমাত্র ছানি অপারেশনের জন্য নয়। চোখের অন্য বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসার জন্যেও রোগীদের ভিড় ক্রমে আরও বেড়ে চলেছে কলকাতার এই সরকারি হাসপাতালে।আরও পড়ুন:
চোখের আলো প্রকল্পে প্রতি মাসে টার্গেট অনুযায়ী কত সংখ্যক ছানি অপারেশন করছেন রাজ্যের কোন হাসপাতালের কোন চিকিৎসক, এই তথ্যের নিরিখে ১০ জন চিকিৎসকের একটি তালিকা প্রকাশ করছে স্বাস্থ্য দফতর। ২০২৩-এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ১০ জন চিকিৎসকের তালিকা অনুযায়ী, মোট ১,৫২৩টি ছানি অপারেশন করে প্রথম স্থানে রয়েছেন আরআইও-র চিকিৎসক অধ্যাপক সলিলকুমার মণ্ডল। গত ডিসেম্বরে তিনি ২৮৬টি অর্থাৎ, টার্গেটের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি ছানি অপারেশন করেছেন চোখের আলো প্রকল্পে।
আরও পড়ুন:
এই ১০ জন চিকিৎসকের তালিকায় থাকা প্রথম ছয় জনের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন আরআইও-র অধিকর্তা অধ্যাপক অসীমকুমার ঘোষ (১,১১০টি অপারেশন)।
এবং, পঞ্চম স্থানে রয়েছেন আরআইও-র চিকিৎসক তানিয়া রায় ভদ্র (১,১২৯টি অপারেশন)। ১০ জনের এই তালিকায় দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে নদিয়ায় অবস্থিত নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক বিমল হোর (১,৪১৮টি অপারেশন), পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক পীযূষকান্তি ঘোষ (১,১৭৪টি অপারেশন) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক মোহনা সিনহা (১,১৭১টি অপারেশন)।আরও পড়ুন:
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত আরআইও-তে শুধুমাত্র চোখের আলো প্রকল্পে ছানি অপারেশনের বিষয়টি নয়। চোখের অন্য বিভিন্ন সমস্যার জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি সরকারি এই চিকিৎসা-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পঠনপাঠন এবং গবেষণার বিষয়টিও রয়েছে। আর, এ সব সামলানোর পাশাপাশি চোখের আলো প্রকল্পে ছানি অপারেশনের ক্ষেত্রে এমন নজির গড়েছেন এখানকার তিন চিকিৎসক। এ দিকে, এই তিন চিকিৎসকের মধ্যে এই হাসপাতালের স্বয়ং অধিকর্তাও রয়েছেন।
অর্থাৎ, প্রশাসনিক বিষয়টি সামলানোর মতো ব্যস্ততার মধ্যেও তিনিও চোখের ছানি অপারেশন করছেন চোখের আলো প্রকল্পে।আরও পড়ুন:
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চোখের আলো প্রকল্পে ছানি অপারেশন করানো হয়। তা হলে কলকাতার এই হাসপাতালে কেন এত বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে? এই বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা সিদ্ধার্থ নিয়োগী বলেন, 'বিষয়টি দেখা হচ্ছে যাতে অন্য হাসপাতালগুলিতেও চোখের আলো প্রকল্পে ছানি অপারেশনের সংখ্যা বাড়ানো যায়, বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা চলছে।' চলতি বছরে চোখের আলো প্রকল্পের অগ্রগতি ভালোভাবে এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ দিকে আরআইও-তে চোখের অন্য বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড়-ও ক্রমে বেড়ে চলেছে। আরআইও-র অধিকর্তা অধ্যাপক অসীমকুমার ঘোষ বলেন, 'আমাদের এখানে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার রোগী এখন আসছেন।' আর, অধ্যাপক সলিলকুমার মণ্ডলের কথায়, 'হাসপাতালের প্রতি আস্থার কারণেই হয়তো এখানে অনেক বেশি রোগী আসছেন।'
আরও পড়ুন:
১০ জন চিকিৎসকের ওই তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্তর্গত গার্ডেনরিচ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল তথা মেটিয়াবুরুজ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক অনু সিং (১,০৩৩টি অপারেশন), অষ্টম স্থানে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক উত্তমকুমার রায়চৌধুরী (১,০২৯টি অপারেশন), নবম স্থানে রয়েছেন জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক তপন অধিকারী (৯৪৩টি অপারেশন) এবং দশম স্থানে রয়েছেন নদীয়ার নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক রামাজ্ঞ কুসুম চক্রবর্তী (৯১৬টি অপারেশন)।