মুহাম্মদ রাকিব– উলুবেড়িয়া­ হাওড়া গ্রামীণ জেলার বাগনান-২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ফুলের চাষ হয়। শুধু বাগনান-২ নয়– বাগনান-১ ব্লকেও ব্যাপক হারে ফুলের চাষ হয়ে থাকে। এখানকার অর্থনীতির বড় অংশ ফুলচাষের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেখা যায় প্রতি মরসুমে ব্লকে উৎপাদিত ফুলের বড় অংশ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়। স্বভাবতই ক্ষতির মুখে পড়ে এখানকার ফুলচাষিরা।

এবার ফুলচাষিদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে কুলিং সেন্টার তৈরি করল বাগনান-২ ব্লক প্রশাসন। চাষিরা এই কুলিং সেন্টারে তাদের উৎপাদিত ফুল সংরক্ষণের জন্য রাখতে পারবেন। বাগনান থানা এলাকার দেউলটিতে ১৬ নং জাতীয় সড়কের পাশে এই কুলিং সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে।

জানা গেছে– হাওড়া ও মেদিনীপুর জেলার মধ্যে এটিই প্রথম ফুল সংরক্ষণ কেন্দ্র। বাগনানের ফুলচাষিরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট এলাকার চাষিরা এই কুলিং সেন্টারে ফুল রাখতে পারবে।

উল্লেখ্য– বাগনান-১ ও ২ নম্বর ব্লকের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত জুড়ে সারাবছর ফুলের চাষ হয়ে থাকে। দেখা যায় উৎপাদিত ফুলের যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয় চাষিরা। চাষিদের বক্তব্য– উৎপাদিত ফুলের সবটা বিক্রি হয়ে যায় এমনটা নয়– অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায় সংরক্ষণের অভাবে। কুলিং সেন্টার হওয়ার ফলে খুশি এলাকার ফুল চাষিরা।

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা যায়– বাগনান-২ ব্লকে ১৬ নং জাতীয় সড়কে ধারে এই কুলিং সেন্টারটি তৈরি হয়েছে।

প্রায় ৬০০ বর্গফুট এলাকা নিয়ে কুলিং সেন্টারটি তৈরি। যেখানে ১০ মেট্রিক টন ফুল সংরক্ষণ করা যাবে। এটি তৈরি করতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে এই টাকা দেওয়া হয়েছিল।

বাগনান-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৌসুমী সেন ও বিডিও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন– ‘কুলিং সেন্টারের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। শীঘ্রই চালু করা হবে। এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা পরিচালনা করবে সেন্টারটি।’