শুভায়ুর রহমান: মেডেল নেওয়ার সময় অনবরত কাঁদছিল রেজওয়ানা মল্লিক হেনা। তবে এ অশ্রু ছিল আনন্দের, বিশ্বজয়ের খুশির। চার বছর বয়স থেকে যে কাজটা শুরু হয়েছিল, এবার সাফল্য ছুঁয়ে মুকুটে উঠল দ্রুততম মহিলার খেতাব। নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার বেলপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শোনডাঙা গ্রাম। এক্কেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেই পঞ্চম এশিয়ান এথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অনুর্দ্ধ ১৮তে ৪০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন।
রেজওয়ানা মল্লিক হেনা ৫২.৯৮ সেকেন্ডে গন্তব্যে পৌঁছে আট বছর আগে গড়া সালওয়া ইদ নাসেরের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।আরও পড়ুন:

ইদ নাসের ৪০০ মিটার হিট সম্পূর্ণ করেছিলেন ৫৩.০২ সেকেন্ডে। শুক্রবার উজবেকিস্তানের তাসখন্ডে কাজাকিস্তানের কিড়েনকো সোফিয়া (৫৫.৭৪) ও হংকংয়ের কার্লসন সুয়েট (৫৫.৮২) কে পিছনে ফেলে ট্রাক সম্পূর্ণ করেন। ষোড়শী রেজওয়ানা মল্লিক বর্তমানে শোনডাঙা হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে ব্যাঙ্গালুরুর অর্জুন অজয়ের কাছে কোচিং নেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন:
রেজওয়ানা মল্লিক হেনা ২০২৩ সালেই ৩০০ মিটার ও ৪০০ মিটারে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হন। রেজওয়ানার বাবা মুহাম্মদ রেজাউল ইসলাম মল্লিক ও মা অনিমা মল্লিকও জাতীয় কবাডি খেলোয়াড় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। রেজাউল মল্লিক পেশায় গ্রামেরই একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। মা গৃহবধূ। বাবার স্বল্প আয়ে দুই বোনের পড়াশোনা, সংসার সবই চলে।
আর্থিকভাবে খুব একটা ভালো নেই বলে জানান তাঁর বাবা রেজাউল ইসলাম মল্লিক।আরও পড়ুন:

রেজাউলের কথায়, মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও খুবই খুশি, আমরাও। ছোটবেলা অর্থাৎ চার বছর বয়স থেকে কৃষ্ণনগরের অনিরুদ্ধ পালের কাছে অনুশীলন করতেন। তারপর ২০১৯ সালে কলকাতায় ডক্টর কল্যাণ চৌধুরীর কাছে প্যাকটিস শুরু হয়। ২০২১ থেকে পার্সোনাল কোচ অর্জুন অজয়ের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন রেজওয়ানা বলে জানা গেছে। পাশাপাশি তাসখন্ডে ২০০ মিটার হিটে ২৪.৩৮ সেকেন্ডে কোয়ালিফাই করে ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করেছেন রেজওয়ানা।