পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট জাফরইয়াব জিলানি বুধবার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন মুসলিম পক্ষের আইনজীবী। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দশক তিনি এই মামলার পিছনে নিরলসভাবে লড়ে গেছেন। ইনসাফের পক্ষে এই সাহসী লড়াইয়ের জন্য মানুষ তাঁকে বহুদিন মনে রাখবে। লখনউয়ের নিশাতগঞ্জ হাসপাতালে এদিন তিনি সকাল এগারোটা পঞ্চাশ নাগাদ মারা যান। বেশ কিছুদিন থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা। এদিন ঈশার নামাযের পর রাত ৮টা ৪৫মিনিটে দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামায় নামায-এ-জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লখনউয়ের আইসবাগ কবরস্থান প্রাঙ্গণে নামায-এ-জানাযার পর সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সেক্রেটারি ছিলেন জাফরইয়াব জিলানি। এছাড়াও বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির চেয়ারম্যান ছিল।
ইউপির অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুতে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন। পুবের কলম সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান মরহুম জিলানির রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল উন্মত্ত করসেবকরা। তারও আগে থেকে বাবরি মসজিদ-রামমন্দির জমি  বিতর্কের মামলা লড়ছিলেন জাফরইয়াব জিলানি (১৯৪৯-২০২৩)। জীবনের প্রায় ৪৫ বছর তিনি বাবরি মামলা লড়ে কাটিয়েছেন যা শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে।
তারপর থেকে মুসলিমদের হয়ে বার বার তিনি বাবরির পক্ষে আদালতে হাজির হয়েছেন। ১৯৮৬ সালে ফৈজাবাদ জেলা জজ মসজিদের তালা খোলার নির্দেশ দিলে গড়ে উঠেছিল বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি। হিন্দুত্বের জিগিরের বিরুদ্ধে মসজিদ রক্ষার জন্য তৈরি এই কমিটির  নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। আসলে জীবনের প্রায় পুরো অংশ জুড়েই নানা ভাবে বাবরি মসজিদের জন্য আন্দোলন করেছেন জিলানি। নিজেকে  যেন উৎসর্গ করেছিলেন এই ঐতিহাসিক মসজিদের জন্য। ১৯৯২ সালে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও তার সংগ্রাম থেমে যায়নি। এমনকি ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাবরি মসজিদের জমি রামমন্দির গড়ার জন্য দিয়ে দেওয়া হলেও হতাশ হননি তিনি। একটি  ব্যর্থ মামলায় জীবনের ৪৫ বছর কাটালেও তিনি অনুতপ্ত হওয়ার কোনও প্রয়োজন বোধ করেননি। কারণ, তাঁর লড়াইটা ছিল ইনসাফের পক্ষে।