পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: নূহ এবং গুরুগ্রামে সাম্প্রদায়িক হিংসার পর একাধিক গোষ্ঠী প্রচার শুরু করেছে যে মুসলিমদের আর্থিক এবং সামাজিক বয়কট করা হোক। এর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বরীষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলার কথা তোলেন। প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এদিন ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির বিরুদ্ধে শুনানি করছিলেন। তারপর যখন লাঞ্চএর জন্য আদালত একটু জিরিয়ে নেয়, ঠিক সেইসময় কপিল সিব্বল উক্ত মামলাটির প্রসঙ্গ তোলেন।
তিনি প্রধান বিচারপতিকে বলেন, মি লর্ড এই ঘটনাটি কিন্তু খুবই গুরুতর। কারণ পুলিশ আধিকারিকের সামনে বলা হয়েছে যে গুরুগ্রামে যদি কেউ তাদের দোকানে কিংবা অন্য ব্যবসায় মুসলিমদের চাকরি দেন তাহলে সেই ব্যক্তিকে ‘গাদ্দার’ নাম দেওয়া হবে। এই ঘটনায় আমরা তড়িঘড়ি আবেদন দায়ের করেছি। মি লর্ড আপনি লাঞ্চ ব্রেকের সময় মামলার ফাইলটি একটু চোখ বুলিয়ে দেবেন। জনৈক শাহিন আবদুল্লাহ একটি আবেদন পেশ করেছেন যেটা তার দায়ের করা রিট আবেদনের সমর্থনে অর্থাৎ ইন্টারলোকিউটারি আবেদন।
গত সপ্তাহে আদালত তার আর্জির উপর একটি রায় দিয়েছিল যে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানায় পুলিশকে সুনিশ্চিত করতে হবে যে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের মিছিলে যেন মুসলিম  বিরোধী স্লোগান না দেওয়া হয় যাতে হিংসার ঘটনা ঘটতে পারে। আদালত বলে নূহে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর আরও সতর্ক হতে হবে পুলিশকে বলে জানিয়েছিল আদালত। আবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতে সাগর, মধ্যপ্রদেশে ৪ আগস্ট তারিখে এবং পঞ্জাবের যাদুশিকায় ৬ আগস্ট তারিখে বজরং দলের এক নেতা প্রকাশ্যেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন নাসির এবং জুনেদের খুন করাটা যুক্তিযুক্ত। প্রসঙ্গত গত ফেব্রুয়ারি মাসে নাসির এবং জুনেদকে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে সব মিছিলে মুসলমান সম্প্রদায়ের যেভাবে দানবীয়করণ করা হয়েছে তাতে এই হিন্দুত্ববাদীদের মিছিলে সবসময় হিংসার সুযোগ থাকে  বরং বলা ভাল যে এই মিছিলের উদ্দেশ্যই হল সমাজে মেরুকরণ করে ভোটে জেতা। আবেদনে আরও বলা হয়েছে সেই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও মামলা করা হোক যারা মিছিলে যোগ দিয়ে মিছিলকারীদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন।