বিশেষ প্রতিবেদকঃ অসমের ৬টি কারাগারে অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্পে এখন বন্দির সংখ্যা ১০০-র থেকেও কম। বেশ কয়েকজনের বিচার প্রক্রিয়া শেষে পথে। আশা করা হচ্ছে অদূরেই তাঁদের মুক্তি মিলতে পারে। অথচ এরই মধ্যে অসমের গোয়ালপাড়া জেলার মাটিয়ায় গড়ে তোলা হয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম ডিটেনশন ক্যাম্প। যদিও অসমের বিজেপি সরকার ডিটেনশন ক্যাম্পের নাম বদলে ট্রানজিট ক্যাম্প বলতে চাইছে।
অসমে ডিটেনশন বন্দির সংখ্যা যখন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে– ঠিক সেই সময় ৪৬ কোটি টাকা খরচ করে ৩০০০ বন্দি রাখার ব্যবস্থা করা হল কেন? উঠছে সেই প্রশ্ন। গোয়ালপাড়ার ডিটেনশন ক্যাম্পটির নির্মাণ কাজ এখন শেষের পথে। তবে কবে নাগাদ এর উদ্বোধন হবে সেটা এখনও নিশ্চিত করেনি দিশপুর। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এর মেন্টেনেন্সের দায়িত্ব কে নেবে– সেটাও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অসমের ৬টি অস্থায়ী বন্দিশালায় যাদের ডিটেনশন বন্দি করে রাখা হয়েছে– তাদের আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নবনির্মিত ডিটেনশন ক্যাম্পে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে গৌহাটি হাইকোর্ট। একইসঙ্গে হাইকোর্ট রাজ্যের স্বরাষ্টÉ দফতরকে নির্দেশ দিয়েছিল– ডিটেনশন ক্যাম্পের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি কতটা হয়েছে– সেটাও জানাতে হবে। হাইকোর্টের এমন নির্দেশে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতরে এর পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে– এত বড় একটি বন্দিশালায় একশোর কম বন্দিকে কীভাবে রাখা হবে? নাকি অচিরেই আরও বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিদেশি তকমা লাগিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠেলে দেওয়ার গোপন পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি সরকারের? একইসঙ্গে প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠছে– এত বড় একটি বন্দিশালা দেখাশোনার জন্য যে বিপুল অর্থ খরচ হবে– সেটা কি এখনও অসম সরকার বরাদ্দ করবে?
রাজধানী দিনপুর থেকে ১২৯ কিলোমিটার দূরে গোয়ালপাড়ার মাটিয়ায় ২৫ বিঘা জমির উপর তৈরি হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ডিটেনশন ক্যাম্প। যাকে এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দিশালা বলা হচ্ছে। ডিটেনশন ক্যাম্পটির এক ঠিকাদার মুকেশ বসুমাতারী জানিয়েছেন– এই মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শেষ হয়ে যাবে।



























