পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ  কুরআন অবমাননার তীব্র নিন্দা জানাল জার্মান সরকার। কুরআন অবমাননার যেকোনও ঘটনাকে ‘অপমানজনক ও অনুপযুক্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান সরকারের মুখপাত্র ক্রিস্টিন হফম্যান। গত ১৬ আগস্ট রাজধানী বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্টিন হফম্যান বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কাজকে অসম্মানজনক ও অনুপযুক্ত বলে মনে করি। তারা সবার মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চায়।

আমরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছি।
আমরা এর নিন্দা জানাই।’ সংবাদ সম্মেলনে হফম্যান আরও জানান, কুরআন অবমাননার বিষয়ে বার্লিনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তবে বিষয়টি নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ এবং ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের আসন্ন বৈঠকে আলোচনা হবে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত কয়েক মাসে সুইডেন, ডেনমার্কসহ উত্তর ইউরোপীয় ও নর্ডিক দেশগুলোতে বহুবার পবিত্র কুরআনের কপি পোড়ানো হয়।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট সুইডিশ রাজধানী স্টকহোমে কুরআনের কয়েকটি পৃষ্ঠায় আগুন দেয় উগ্রবাদীরা।
বাকস্বাধীনতার অজুহাতে পুলিশের নিরাপত্তায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এর প্রতিবাদে মুসলিম দেশসহ সারা বিশ্ব ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগসহ মুসলিম দেশ ও সংস্থাগুলো এ ধরনের বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়।

গত ১২ জুলাই কুরআন অবমাননার পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ রোধে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ধর্মীয় গ্রন্থের প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়। তাতে কুরআন অবমাননার মতো ঘৃণ্য কাজকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল বলা হয়।