পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: নুহ-র নগীনায় সহিংসতার পর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ডজনখানেক পরিবারের বাড়িঘর।  দারিদ্রসীমার নিচে জীবনযাপন করা পরিবারের জন্য ইন্দিরা আবাস যোজনা এবং   প্রিয়দর্শিনী আবাস যোজনার অন্তর্গত ২০১২-১৩-য় তৈরি দুটি বাড়িও বুলডোজ করা হল।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মুখে হরিয়ানা-পঞ্জাব হাইকোর্টের কড়া পদক্ষেপের পর  নুহতে বুলডোজারের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু এর আগেই হরিয়ানা প্রশাসন নুহ  জেলায় মোট ১২০৮টি বাড়ি বুলডোজারের নিচে ধুলিসাৎ করেছে।

উল্লেখযোগ্য হল, বেশিরভাগ বুলডোজার চলেছে বিশেষ এক সম্প্রদায়ের সম্পত্তির উপর। দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারীদের জন্য তৈরি সরকারি প্রকল্পে পাওয়া  ঘরকেও রেয়াত করা হয়নি।

নূহর নগীনায় সহিংসতার মাশুল দিতে হল একডজন পরিবারকে, তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হল। এখন এইসব পরিবারের শিশুরাও খোলা আকাশের নিচে দিন গুজরান করছে।

ভুক্তভোগী ইসরাইল জানান, ‘আমার বাড়ি সরপঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমরা গরীব। দিন মজুরী করে সংসার চালাই। আমার যাওয়ার কোনও জায়গাও নেই।
আমি এখানেই থাকতে চাই। আগেও সরকারই আমাকে ঘর দিয়েছিল, এবারও সরকারই ঘর বাড়িয়ে দিক।’

ঘরের দরজায় স্পষ্ট লেখা হরিয়ানা সরকার প্রিয়দর্শিনী প্রকল্পের অধীনে তৈরি বাড়ি। সহিংসতার শিকার সমরুদ্দিন জানান, ‘আমার পরিবারের ৫টি বাড়ি ভাঙা হয়েছে। আমরা কাজে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি বুলডোজার চলছে।
চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমরা কোথায় যাব, ১৯৮০ সাল থেকে এখানেই থাকি।’ যদিও জেলাপ্রশাসনের বক্তব্য কেবলমাত্র অবৈধভাবে নির্মাণের উপরই বুলডোজার চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে, হরিয়ানা পঞ্চায়েতে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের বয়কট ঘোষণায় ঘটনা ইউ টার্ন নিয়েছে। এই ঘোষণাকে প্রশাসন সামাজিক সম্প্রীতি ধ্বংসকারী বলে উল্লেখ করেছে।

 দুটি পঞ্চায়েতই ভিডিয়ো জারি করে এই ডিক্রি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। কবলানা গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান বলেন, আমরা সর্বধর্মকে সম্মান করি। বয়কট সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন। এখানে যে কেউ এসে ব্যবসা করতে পারে।