আবদুল ওদুদ: ফের জেলা সফর শুরু করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সফর শুরু হচ্ছে উত্তরবঙ্গ দিয়ে। নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১১ নভেম্বর, সোমবার রাতে তিনি দার্জিলিং পৌঁছাবেন। এই প্রথম রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দার্জিলিংয়ে সরস মেলা হচ্ছে পঞ্চায়েত দফতরের উদ্যোগে। ম্যালের চৌরাস্তায় টানা ১১ দিন চলবে এই মেলা। আগামী ১৩ নভেম্বর দুপুর ৩টের সময় সেই সরস মেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হস্তশিল্পীরা মেলায় যোগ দেবেন।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের হস্তশিল্পীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দার্জিলিং এলাকায় একটি বড় মেলা করা হোক, যার মাধ্যমে তাদের হস্তশিল্পের নানা সামগ্রী দেশ ও বিদেশী পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। তাদের কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই প্রথম দার্জিলিংয়ে সরস মেলার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন ১২ নভেম্বর। ওই দিন দুপুর তিনটে-সাড়ে তিনটে নাগাদ তিনি জিটিএ এবং পাহাড়ের বিভিন্ন ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল জিটিএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। একই সঙ্গে, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক হবে তাঁর। এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পার্বত্য এলাকা বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এরপর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর শিলিগুড়ি ফিরে আসার কথা।
শুক্রবার কলকাতায় ফিরবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় ফিরেই তিনি আরও এক কর্মসূচীতে যোগ দেবেন। রাজারহাটে আদিবাসী ভবনে বীরসা মুন্ডার ১৫০ তম জন্মতিথির অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। নভেম্বরের ১৫-২১ তারিখ পর্যন্ত সব জেলাতেই পালিত হবে বীরসা মুন্ডা দিবস। রাজ্যজুড়ে ঘটা করে এই বীরসা মুন্ডা দিবস উদযাপিত হবে। তার প্রস্তুতিও চলছে জেলায় জেলায় ।মূল প্রোগ্রামের প্রস্তুতি চলছে আদিবাসী ভবনে তার তৎপরতাও চলছে জোর কদমে।আরও পড়ুন:
লোকসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম দার্জিলিং সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত,লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল দার্জিলিং আসনে পরাস্ত হয়েছে। ফলে রাজনৈতিকভাবেও তাঁর এই সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ে তিন পুরসভার বকেয়া নির্বাচনে তাঁর দলের অবস্থান নিয়েও এবার আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের হস্তশিল্পের প্রসারের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সরস মেলার মাধ্যমে দেশ বিদেশের পর্যটকদের কাছে রাজ্যের হস্তশিল্পীদের কাজ তুলে ধরার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং যেহেতু রাজ্যের মধ্যে সর্ববৃহৎ পর্যটন এলাকা। সেক্ষেত্রে এই এলাকায় দেশি এবং বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা সবথেকে বেশি। দেশী ও বিদেশীদের কাছে বাংলার হস্তশিল্প তুলে ধরাই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রীর দার্জিলিং সফর ঘিরে এখন চরম ব্যস্ততা রয়েছে পাহাড়ে। মুখ্যমন্ত্রীর দার্জিলিং সফর ঘিরে পাহাড়বাসীর মনে ক্রমশই বাড়ছে উত্তেজনা এবং উদ্দীপনা।