পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক:হরিয়ানার নুহতে দাঙ্গার ঘটনায় জড়িত স্বঘোষিত গো-রক্ষক বিট্টু বজরঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফরিদাবাদ নিজের বাসভবন থেকে বিট্টুকে গ্রেফতার করা হয়। ১ অগস্ট বিট্টুর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ছিল উস্কানিমূলক গান। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল স্থানীয় দাওবা থানায়। তার গ্রেফতারির দাবি উঠেছিল আগেই। কিন্তু জল মাপছিল পুলিশ। বিট্টুর সঙ্গে ভিএইচপি কিংবা বজরং দলের সম্পর্ক কতটা গভীর তা বোঝার চেষ্টা করছিল খাট্টারের পুলিশ। বুধবার বিশ্বহিন্দুপরিষদ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে বিট্টু বজরঙ্গি তাদের দলের লোক নয়।
পুলিশ বুঝে নেয় এই মুহূর্তে বিট্টুর মাথায় ভিএইচপির হাত নেই। ফলে সিভিল ড্রেসে গিয়ে বিট্টুকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত ৩১ জুলাই হরিয়ানায় একটি ধর্মীয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। মিছিলে ছিল বিট্টু বজরঙ্গি। পালওয়াল, মানেসার, ফরিদাবাদ এবং রেওয়ারিতেও সংঘর্ষের রেশ ছড়িয়ে পড়ে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় মসজিদ। খুন করা হয় ইমামকে। এই সহিংসতায় মোট ছ’জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের সামনে মন্দিরের বারান্দা থেকে গুলি ছোড়ে গেরুয়া তাণ্ডবকারীরা।

ভিএইচপি জানিয়েছে রাজকুমার ওরফে বিট্টু বজরঙ্গি তাদের দলের কেউ নয়। ভিডিয়োর মাধ্যমে সে যে উস্কানি দিয়েছে তা দল অনুমোদন করে না। যদিও এরপরও তার সাজা হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বহু মনে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননা করে, দেশের সংবিধানকে অপমান করে এবং মুসলিমদের গণহারে হত্যার নিদান দিয়েও বহাল তবিয়তে রয়েছেন ইয়াতি নরসিংহানন্দ। বহু টালবাহানার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল বটে, তবে বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত।

ভিএইচপির তরুণ সংগঠনের সদস্যরা  বজরঙ্গি। তাদের দিয়ে দল ভারি করে ভিএইচপি। বুধবার বিট্টুকে আদালতে তোলার কথা। মনু মানেসর ভিএইচপির শোভাযাত্রায় উপস্থিত থাকবে বলে ভুয়ো প্রচার করেছিল বিট্টু।
তার স্পষ্ট ফুটেজ আছে।  পুলিশ জানিয়েছে, গোরক্ষ বজরং ফোর্স নামে একটি সংগঠনের সভাপতি বিট্টু।

নয়া ভারতে গোরক্ষার নামে একদল চোর ও খুনি বারবার রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছে। গেরুয়া রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে তারা ক্রমশ উদ্ধত হয়ে উঠেছে। গোরক্ষার নাম করে তারা মুসলিমদের পিটিয়ে মেরেছে। খুন করেছে। গরু লুঠ করেছে, আর গেরুয়া দলগুলি তাদের বীরের মর্যাদা দিয়েছে। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে একজন বিট্টু বজরঙ্গিকে পাকড়াও করে পরিস্থিতি বদলানো কঠিন। এই অবস্থা বদলাতে পারে সরকার এবং প্রশাসন। গেরুয়া শাসকদলকে বুঝতে হবে বিদ্বেষে দল চলে দেশ চলে না ।