পুবের কলম প্রতিবেদক: কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল বাহিনীর সকল আইপিএস অফিসার এবং সাধারণ পুলিশ কর্মীদের জন্য রেডিও ফিকিউন্সি আইডেন্টি কার্ড বা আরএফআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা।
আরও পড়ুন:
এবার সেই একই ব্যবস্থা কলকাতা পুলিশের সকল হোম গার্ড ও সিভিক ভোলেন্টিয়ারদের জন্যও বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হচ্ছে। এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাতেই এই আরএফআইডি কার্ড চালু করা হয়েছে বলে পুলিশের একাংশের বিশ্বাস। তাই প্রথম দিন থেকেই এই আরএফআইডি কার্ড চালু করা নিয়ে কলকাতার পুলিস মহলে বিতর্ক রয়েছে।
বিশেষ করে, আইপিএস অফিসার-দের ইউনিফর্ম এই আরএফআইডি কার্ড লাগানো যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্ক বেঁধেছে। তার মধ্যেই এই ব্যবস্থা লাগু করে দেওয়া হল কলকাতা পুলিশের সকল হোম গার্ড ও সিভিক ভোলেন্টিয়ারদের দের মধ্যেও।আরও পড়ুন:
বিতর্ক ঠিক কোথায়? কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের গাইড লাইন অনুসারে গোটা দেশে আইপিএস অফিসারদের ইউনিফর্ম ঠিক হয়। ফলে সেই উর্দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমতি ভিন্ন আরএফআইডি কার্ড লাগানো আইনসম্মত নয়।
এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আধিকার একমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। আবার, কলকাতা পুলিশেরই এসটিএফ-স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীদের জন্য এই আরএফআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করায় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। কেন না, দেড়শ বছরের প্রচলিত প্রথা হল, অপরাধীদের নজর এড়াতে কলকাতা পুলিশের এই সব ইউনিটের গোয়েন্দারা আমজনতার বেশে ডিউটি করতে হয়।আরও পড়ুন:
শুধু কলকাতা পুলিশেই নয়, আরএডব্লু, আইবি এবং 'এনআইএ'র মতো দেশের সব এলিট গোয়েন্দা সংস্থাই এই প্রথা মেনে চলে। কিন্তু কলকাতার পুলিশ কমিশনার এই কার্ড সবার জন্য বাধ্যতামূলক করায়, গোয়েন্দাদের পরিচয় আর গোপন রাখা সম্ভব হবে না। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এর ফলে গোয়েন্দা বাহিনী তৈরির মুল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যেতে বসেছে।