পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি মোরাদাবাদে বাড়ির ভেতর তারাবির নামায পড়ায় বজরং দলের নেতারা বলপূর্বক নামাযে বাধা দেয়।  আর এবার একই ঘটনার প্রতিফলন দেখা গেল নয়ডাতেও। সোমবার রাতে গ্রেটার নয়ডার একটি হাউজিং সোসাইটির বেসমেন্টে নামায পড়া ঘিরে বিবাদ শুরু হয় । পুলিশি হস্তক্ষেপে শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোসাইটির মুসলমান  বাসিন্দারা তাঁবু খাটিয়ে নামাজ পড়ছিলেন। আর সেখানে সোসাইটির বাইরের মানুষদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তাঁরা জানেন, নিয়ম অনুযায়ী সোসাইটির ভিতরে অবাধে বাইরের লোকজনের আসা নিষিদ্ধ। এরপর দুপক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ শুরু হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নামাযের জন্য খাটানো তাঁবু সরিয়ে দেয় পুলিশ। হিন্দু বাসি¨াদের আপত্তির জেরে মুসলমানরা নামায পড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

ওই বিবাদের ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর মুসলমান বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধ্যাপক অশোক সোয়াইন, ঐতিহাসিক রানা সাফভি ও সাংবাদিক সমর হালানাকার।  সাংবাদিক সমর হালানাকার বলেন, ‘হিন্দুদের ধর্মীয় মিছিলের সময় রাস্তা দখল করে অস্ত্র নিয়ে বেরোনোর অনুমতি দেওয়া হয় অথচ বেসমেন্ট বা গোডাউনে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের প্রার্থনা নিয়ে আপত্তি করা হচ্ছে।
এটাই আমাদের সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি’।

সুইডেন-ভিত্তিক শিক্ষাবিদ এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক-অধ্যাপক অশোক সোয়াইন এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন, ‘ভারতের রাজধানী দিল্লির কাছে একটি হাউজিং সোসাইটির হিন্দুরা কেন হট্টগোল করছে? সোসাইটির কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দা বেসমেন্টে নামায পড়ায় তারা ক্ষুব্ধ। মুসলমানের নামাজের ভয়ে হিন্দুরা এত দুর্বল হয়ে গেল কবে থেকে?’

এই দেশে কয়েক শতাধী থেকে মুসলমানদের বাস।
ঈদ-জুম্মা-তারাবি কোনো ধরণের নামাযের জামাত নিয়ে এর আগে কোনোদিন এমন পরিস্থিতি হয়নি। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীরা জামাত দেখলেই রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই  প্রবণতা দিনের পর দিন দেখেও চুপ কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যে রাজ্যগুলিতে গো বলয়ের রাজনীতি যত সক্রিয়, সেখানেই এই ধরণের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিজেপি একদিকে মুসলমান ভোট ঝোলায় পুরতে চাইছেন। আর এক দিকে তাদেরই সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের মৌলিক অধিকার কাড়ার চেষ্টায় রয়েছে।