পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:  প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র রমযান মাস শুরুর আগে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সহিংসতা বাড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। সহিংসতা এড়াতে রবিবার জর্ডানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেয় আমেরিকাও। জর্ডানের উপকূলীয় শহর আকাবার লোহিত সাগর বন্দরে একদিনের বৈঠকে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রেট ম্যাকগার্ক।

বহু বছর পর প্রথমবারের মতো এই বৈঠকে একত্রিত হবেন ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধানরা। প্রধান আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও থাকছেন বৈঠকে।
এই বৈঠকে আমেরিকা ও মিশরীয় প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার জর্ডানের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা এই বৈঠকের লক্ষ্য।

তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক-নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকটি ফিলিস্তিনি এবং ইসরাইলিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশম নকরতে জর্ডানের প্রচেষ্টার অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ না নিলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আরও সহিংসতা বাড়াতে পারে।' তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই আলোচনার লক্ষ্য ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট লাঘবে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

২২ ফেব্রুয়ারি, বুধবার ইসরাইলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের নাবলুসে অভিযান চালিয়ে ১১ জন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে।
নৃশংস এই ঘটনায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। এর ফলে অধিকৃত অঞ্চলে ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে জর্ডান।

জানুয়ারিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকের জন্য আম্মান সফর করেছিলেন। সে সময় বাদশা আবদুল্লাহ শান্তি বজায় রাখতে সকল সহিংসতা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন।

এছাড়া ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে কয়েক দশকের পুরানো সংঘাত দূর করতে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি জর্ডানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন বাদশাহ আবদুল্লাহ।
মিশরের মতো জর্ডানও ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে। এছাড়া ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরাইন, মরক্কো এবং সুদানও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। যদিও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে ‘মুসলিম বিশ্বের পিঠে ছুরি মারা’ বলে অভিহিত করেছেন ইসলামি গবেষক ও চিন্তাবিদরা।

উল্লেখ্য, জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক জর্ডানের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকটি কয়েক মাস ধরে চলমান ইসরাইল-ফিলিস্তিনের সংঘর্ষ থামানোর একটি সুযোগ করে দিয়েছে। দুই দেশের এই দ্বন্দ্বের বিষয়ে আরবদের ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। গতবছর রমযান মাসে জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি পুলিশ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার শিকার হয় যায়নবাদীরা।