পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: যেই স্বপ্ন ঘুমাতে দেয়না, সেই স্বপ্নেই বিভোর ছিলেন ফাতিমা। ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। নীল আকাশের বুকে মেঘের ভেলার মতো উড়ে বেরানোর। সেই স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিয়েছেন সৈয়দা  সালভা ফাতিমা। দেশের বাণিজ্যিক উড়ানের প্রথম মহিলা পাইলট তিনি।

হায়দরাবাদের পুরাতন শহর মুঘালপুরার বাসিন্দা ফাতিমা। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর।
বড় হয়েছেন  অনটনে। পাওয়ার মতো পেয়েছিলেন শুধু বাবা-মার নৈতিক সমর্থন। যা মনে ভরসা জুগিয়েছিল। ছিল মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস। আর ছিল পাইলট হওয়ার অদম্য জেদ।  সেই বিশ্বাস আর জেদ নিয়েই ফাতিমা এগিয়েছিলেন স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। হাজার বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছিল ফাতিমা।
এবার সেই সাফল্যের কাহিনী ১৮ মার্চ জুম মিটিং-এ তুলে ধরবেন ফাতিমা নিজেই।

ফাতিমার বাবা ছিল সামান্য একটি বেকারি কর্মী। পেট চালাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হত তাদের। তারপরেও নিজের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি ফাতিমা। এমনকি জীবনের এক পর্যায়ে স্কুলের ফি দেওয়ার মতো সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের। সেই সময় স্কুলের ফি পরিশোধ করে ফাতিমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তারই এক শিক্ষক।

ক্লাস ১১ এর পর ইএএমসিইটি-এর একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন ফাতিমা।
সেই সময় এক শিক্ষকের প্রশ্নে ফাতিমা উত্তর দিয়েছিলেন আমি পাইলট  হতে চাই। তাঁর এই কথাকে অনেকেই শিশুসুলভ স্বপ্ন বলে  উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে সেই সময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সিয়াসাত উর্দু সংবাদমাধ্যমের এডিটর জাহিদ আলি খান। তিনি অর্থদিয়ে  ফাতিমাকে সাহায্য করেন। একই সঙ্গে দেন নৈতিক সমর্থন। অবশেষে ২০১৩ সালে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে পাইলট হবার পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। সেখানেও তাঁকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়।  মাল্টি-ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ এবং টাইপ-রেটিংয়ের জন্য তার প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল। সেই সময় ২০১৫ সালের  মার্চ মাসে তেলেঙ্গানার চন্দ্রশেখর রাওয়ের সরকার তাঁকে ৩৫.৫ লক্ষ টাকা অনুদান  দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন৷ ফাতিমা নিউজিল্যান্ডে মাল্টি-ইঞ্জিন প্রশিক্ষণ এবং বাহরাইনে টাইপ-রেটিং এর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আজ, তিনি সফল পাইলট। বহু মানুষের কাছে তিনি অনুপ্রেরণা৷