পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক : ফের যোগী রাজ্যে এক মুসলিম দম্পতিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সামনে এলো। শুক্রবার এমনই নৃশংস ঘটনা ঘটে উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরে। পড়শি এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেয়নি হিন্দু বাবা। তাই প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির বাবা ওই মুসলিম যুবকের বাড়িতে চড়াও হয়। এরপর উন্মত্ত বেশ কয়েকজন ওই মুসলিম যুবকের বাবা-মাকে লাঠি, রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। প্রচন্ড মারধরের ফলে আব্বাস ও কামরুল নেশার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সীতাপুর থানা পুলিশ আধিকারিক চক্রেশ মিশ্র বলেন, ঘটনার সূত্রপাত কয়েক বছর আগের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কয়েক বছর আগে আব্বাসের ছেলে প্রতিবেশী এক হিন্দু মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। মেয়েটির বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে আব্বাসের ছেলেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। দিন কয়েক আগেই আব্বাসের ছেলে শওকত জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে।
এরই মাঝে মেয়েটির বাবা দলবল নিয়ে আব্বাসের ঘরে হামলা চালায়। এবং সেই হামলাতেই আব্বাস ও তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসের ছেলে শওকতের সঙ্গে প্রতিবেশী রামপালের মেয়ে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০২০ সালে হঠাৎ একদিন শওকত রামলালের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। রামপাল শওকতের বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেন। এবং তাঁর মেয়ে নাবালিকা বলে দাবি করেন রামপাল।
মামলা দায়ের হওয়ার পর শওকত এর জেল হয়। পুলিশ আধিকারিক চক্রেস মিশ্র জানান, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গত জুন মাসে শওকত ফের রামলালের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় এবং তাকে বিয়েও করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকান্ডে এখনো পর্যন্ত ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আরো ২ অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তরা শীঘ্রই তাদের জালে ধরা পড়বে বলে আশাবাদী সীতাপুর থানার পুলিশ।