০৮ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসমে উচ্ছেদের নিশানায় মুসলিমরা?, মাদ্রাসা, ২ মসজিদ-সহ ভাঙা হল ৩৫০ বাড়ি

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ অসমে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে নিশানা করা হচ্ছে রাজ্যের ৩৫ শতাংশ জনসংখ্যার সংখ্যালঘু মুসলিমদের। বিজেপির দ্বিতীয় দফার সরকারে হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শাসক দলের মুসলিম বিদ্বেষ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের সবক’টি সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করার পর– গো-সংরক্ষণের নামে গো-মাংস নিষিদ্ধ থেকে শুরু করে বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মহল্লাগুলিতে চালানো হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। ইতিমধ্যে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে– যার সিংহভাগই মুসলিম। অথচ এদের পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এবার উচ্ছেদের নিশানা অসমের বিস্তীর্ণ চর-চাপুরি অঞ্চলে। সেখানেও বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলিমদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।

অসমে উচ্ছেদের নিশানায় মুসলিমরা?, মাদ্রাসা, ২ মসজিদ-সহ ভাঙা হল ৩৫০ বাড়ি

সম্প্রতি অসমের দরং জেলার সিপাঝারে প্রশাসনের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাড়ে তিনশো পরিবারকে আশ্রয়হীন করা হয়েছে। ‘সরকারি জমিতে বেআইনি দখল’ আখ্যা দিয়ে যাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে– তাদের কেউই হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা পরিবার নয়। কয়েক পুরুষ ধরে তারা অসমের বাসিন্দা। ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসী ভাঙনে ভিটে-জমি হারিয়ে তারা চর অঞ্চলে বসবাস করে আসছিলেন।

ধলপুর– সিপাঝারে যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়– সেই তিনশোটি পরিবারই দরিদ্র মুসলিম। ১৪-১৫টি বুলডোজার ও জেসিবি-লোডার দিয়ে নিমেষে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে তাদের বাঁশ-টালির মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু। কেবল বাড়ি-ঘর নয়– সেইসঙ্গে একটি মাদ্রাসা ও দু’টি কাঁচা মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ভাঙার সময় ধর্মীয় অনুভূতিকেও তোয়াক্কা করা হয়নি। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে পবিত্র কুরআন শরীফ ও অন্যান্য ধর্মীয় পুস্তক।

স্বাভাবিকভাবেই এইভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় সরকারের উদ্দেশ্য ও মানবিকতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এআইইউডিএফের বিধায়ক তথা রাজ্য জমিয়তে উলামায়ের নেতা ড. হাফিজ রফিকুল ইসলাম বলেন– এই উচ্ছেদ অভিযান ধর্মনিরপেক্ষ দেশে অমানবিক কাজ। হিটলারের যুগেও কোনও জাতিকে টার্গেট করে একতরফা এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ইতিহাসেও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন–  অসমের হাজার হাজার হেক্টর ভূমি মিজোদের দখলে রয়েছে– তাতে অসম সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলো সরকারি জমিতে বসবাস করলে হিমন্ত বিশ্বের সরকারের ঘোরতর আপত্তি। বুধবার উচ্ছেদস্থল পরিদর্শনে যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংখ্যালঘু ছাত্র সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনের দরং জেলা সভাপতি হাফিজ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানান– যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে– তারা সবাই এ দেশেরই বাসিন্দা। সরকারের উচিত ছিল তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা না করে শত শত পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে দাঁড় করিয়ে দিল। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রিপুন বরাও।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

হরমুজ প্রণালী খোলা, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নয় : ইরান

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

অসমে উচ্ছেদের নিশানায় মুসলিমরা?, মাদ্রাসা, ২ মসজিদ-সহ ভাঙা হল ৩৫০ বাড়ি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ অসমে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই নানাভাবে নিশানা করা হচ্ছে রাজ্যের ৩৫ শতাংশ জনসংখ্যার সংখ্যালঘু মুসলিমদের। বিজেপির দ্বিতীয় দফার সরকারে হিমন্ত বিশ্বশর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শাসক দলের মুসলিম বিদ্বেষ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের সবক’টি সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করার পর– গো-সংরক্ষণের নামে গো-মাংস নিষিদ্ধ থেকে শুরু করে বেছে বেছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মহল্লাগুলিতে চালানো হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান। ইতিমধ্যে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে উচ্ছেদ করা হয়েছে– যার সিংহভাগই মুসলিম। অথচ এদের পুনর্বাসনের কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। এবার উচ্ছেদের নিশানা অসমের বিস্তীর্ণ চর-চাপুরি অঞ্চলে। সেখানেও বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলিমদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।

অসমে উচ্ছেদের নিশানায় মুসলিমরা?, মাদ্রাসা, ২ মসজিদ-সহ ভাঙা হল ৩৫০ বাড়ি

সম্প্রতি অসমের দরং জেলার সিপাঝারে প্রশাসনের তরফ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সাড়ে তিনশো পরিবারকে আশ্রয়হীন করা হয়েছে। ‘সরকারি জমিতে বেআইনি দখল’ আখ্যা দিয়ে যাঁদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে– তাদের কেউই হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা পরিবার নয়। কয়েক পুরুষ ধরে তারা অসমের বাসিন্দা। ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসী ভাঙনে ভিটে-জমি হারিয়ে তারা চর অঞ্চলে বসবাস করে আসছিলেন।

ধলপুর– সিপাঝারে যাঁদের উচ্ছেদ করা হয়– সেই তিনশোটি পরিবারই দরিদ্র মুসলিম। ১৪-১৫টি বুলডোজার ও জেসিবি-লোডার দিয়ে নিমেষে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে তাদের বাঁশ-টালির মাথাগোঁজার ঠাঁইটুকু। কেবল বাড়ি-ঘর নয়– সেইসঙ্গে একটি মাদ্রাসা ও দু’টি কাঁচা মসজিদও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ভাঙার সময় ধর্মীয় অনুভূতিকেও তোয়াক্কা করা হয়নি। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে পবিত্র কুরআন শরীফ ও অন্যান্য ধর্মীয় পুস্তক।

স্বাভাবিকভাবেই এইভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় সরকারের উদ্দেশ্য ও মানবিকতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এআইইউডিএফের বিধায়ক তথা রাজ্য জমিয়তে উলামায়ের নেতা ড. হাফিজ রফিকুল ইসলাম বলেন– এই উচ্ছেদ অভিযান ধর্মনিরপেক্ষ দেশে অমানবিক কাজ। হিটলারের যুগেও কোনও জাতিকে টার্গেট করে একতরফা এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ইতিহাসেও হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন–  অসমের হাজার হাজার হেক্টর ভূমি মিজোদের দখলে রয়েছে– তাতে অসম সরকারের কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষগুলো সরকারি জমিতে বসবাস করলে হিমন্ত বিশ্বের সরকারের ঘোরতর আপত্তি। বুধবার উচ্ছেদস্থল পরিদর্শনে যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংখ্যালঘু ছাত্র সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনের দরং জেলা সভাপতি হাফিজ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ জানান– যাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে– তারা সবাই এ দেশেরই বাসিন্দা। সরকারের উচিত ছিল তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু তা না করে শত শত পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে দাঁড় করিয়ে দিল। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আশ্রয়হীনদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রিপুন বরাও।