পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: খোলা মাঠ। শতাব্দী প্রাচীন অশোক গাছ। একটি ভারতের পতাকা। দুটি শ্রেণীকক্ষ। একটি অফিস ও  ১০ জন পড়ুয়া। কথা  হচ্ছে, পুণে জেলার ‘হোলে বস্তি’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
মাত্র  দু’মাস আগে এই স্কুলে  বদলি হয়ে এসেছিলেন অরবিন্দ দেবকর। প্রত্যন্ত গ্রামে নির্মিত এই স্কুল। নেই কোনও সাফাই কর্মী। ইচ্ছা ছিল,  স্কুল চত্বর পরিষ্কার করে নতুনভাবে ছাত্রদের নিয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। তার আগেই ঘটল বিপত্তি। অভিমানে আত্মঘাতী হলেন নতুন শিক্ষক।

জানা গেছে,  মাত্র দু’মাস আগেই এই বিদ্যালয়ে বদলি করা হয় তাঁকে। দিন কয়েক আগেই স্কুলের পড়ুয়াদের অরবিন্দ জানান, সকলে মিলে বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করা হবে। বিষয়টি জানাজানি হতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন অভিভাবকরা।  ঘটনার প্রতিবাদে ৯ জন পড়ুয়ার অভিভাবক সংশ্লিষ্ট স্কুল থেকে তাঁদের সন্তানদের টিসি নিয়ে অন্যত্র চলে যান।  ফলে বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার একেবারে শূন্যে এসে ঠেকে। যার জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন পুরষ্কারজয়ী ওই শিক্ষক।
স্কুল চত্বরেই বিষ পান করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বাঁচানো যায়নি।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় দু’দশক শিক্ষকতার দৌলতে সম্প্রতি আদর্শ শিক্ষকের পুরষ্কারও পেয়েছিলেন অরবিন্দ। এদিন মৃতদেহের কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। লেখা ছিল,  ‘পড়ুয়া ও তাদের অভিভাবকদের মন জয় করতে পারিনি। নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে। সেখান থেকেই চরম সিদ্ধান্ত।