পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভেঙে দেওয়া হল পাকিস্তানের সংসদ। বুধবার মধ্যরাতে প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানালে, তা গ্রহণ করা হয়। এদিকে, কারাবন্দি পিটিআই নেতা ইমরান খানের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

তাই অনেকেই বলছেন, দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় এই নেতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের আয়োজন পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বিলুপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংসদ ভেঙে দেওয়ায় দেশে ক্ষমতায় আসবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সবার দৃষ্টি সেদিকে। বিশ্লেষকরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বিভিন্ন নাম সামনে নিয়ে আসতে থাকেন।
যদিও গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য এখনও কাউকে চূড়ান্ত করা হয়নি। জোটের শরিক ও পাকিস্তান মুসলিম লিগের (নওয়াজ) প্রধান নওয়াজ শরিফের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে।

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। তবে গত বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বিরোধীদের আনা আস্থা ভোটে হেরে ইমরানের সরকার ক্ষমতা হারায়।
পরে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে বিরোধীরা জোট সরকার গঠন করে।

এরই মধ্যে তোষাখানা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ইমরান খানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ইসলামাবাদ আদালত। আর কারাবন্দি এই পিটিআই নেতাকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনে ইমরান খানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইমরান খানের প্রতি পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের সমর্থন রয়েছে বলে মনে করা হয়। ফলে তাকে বাদ দিয়ে বা জেলে রেখে নির্বাচনের আয়োজন পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।