পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পলাতক হিরা ব্যবসায়ী মেহুল চোক্সিকে (Mehul Choksi) গ্রেফতার করেছে বেলজিয়াম সরকার। চোক্সি বেলজিয়াম পুলিশের হেফাজতে আছে বলে খবর। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রায় ১৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার বেশি ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। মেহুলের সঙ্গে তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদিও জড়িত বলে অভিযোগ। ২০১৮ দেশ ছেড়ে পালায় হিরা ব্যবসায়ী মেহুল চোক্সি। সেই সময় থেকেই দেশে প্রত্যর্পণ চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।আগামী সপ্তাহে বেলজিয়ামের আদালতে চোক্সির (Mehul Choksi) মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন:
২০২১ সালে ডোমিনিকার আদালতে চোক্সির (Mehul Choksi) প্রত্যর্পণের জন্য সিবিআইয়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই সময় চোক্সি অভিযোগ করেছিলেন তাঁকে অপহরণ করে মারধর করা হয়েছে।
এরপর আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল হিরা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রেড নোটিস প্রত্যাহার করে নেয়। মোদি সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং তাঁকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর আইজীবী। চোক্সির আইনজীবী সাইমন বেকার্ট একটি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, "চোক্সি ভারতে ন্যায্য বিচার পাবেন না।"আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন: নজরে বিহার বিধানসভা! রাহুল-খাড়গের সঙ্গে বৈঠকে তেজস্বী
আরও পড়ুন:
চোক্সি (Mehul Choksi) বর্তমানে অ্যান্টিগুয়ার নাগরিক। অ্যান্টিগুয়ান সরকারের কাছে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জানিয়েছে ভারত সরকার। মেহুলের ভাগ্নে নীরবকে মোদি সরকারের অনুরোধে যুক্তরাজ্যে গ্রেফতার করে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি জেলবন্দি। তাঁকেও ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বলেছেন, "চোক্সির গ্রেফতার সরকারের কূটনৈতিক জয়। এটি ভারতেরর জন্য গর্বের বিষয়।" গত কয়েক বছরে ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। বেলজিয়ামের রাজা ফিলিপের সঙ্গে ফোন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।আরও পড়ুন:
চোক্সি (Mehul Choksi) এবং তাঁর ভাগ্নে নীরব মোদির বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে জালিয়াতি করে প্রায় ১৩,৫৭৮ কোটি টাকা গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে। সিবিআই তাদের এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিল। এই মামলার ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও অর্থ পাচারের মামলা দায়ের করেছে।
২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে হিরা ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। এর পরে জানা যায়, চোক্সি ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে অ্যান্টিগুয়ার নাগরিকত্ব নিয়েছেন। ২০১৮ সালের আগস্টে তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য আবেদন করা হয়। তদন্ত সংস্থাগুলির আবেদনের ভিত্তিতে, ইন্টারপোল সেই বছরের ডিসেম্বরে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিসও জারি করে।আরও পড়ুন:
২০২১ সালের মে মাসে ডোমিনিকায় গ্রেফতার করা হলে তাঁকে অ্যান্টিগুয়ায় অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এরপর ক্যান্সার ধরা পড়ায় চিকিৎসার কারণে ডোমিনিকান আদালত তাঁকে জামিন দেয়। এরপর চোক্সি অ্যান্টিগুয়ায় ফিরে আসেন। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে, তার আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোল রেড নোটিস প্রত্যাহার করে নেয়। ১২ এপ্রিল বেলজিয়ামের এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি চোক্সিকে (Mehul Choksi) গ্রেফতার করেছে। ভারতে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করার কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণের জন্য রেড নোটিস বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছে সিবিআই।
আরও পড়ুন:
https://www.youtube.com/watch?v=VPJ89l-Veys
আরও পড়ুন: