পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তাদের সঙ্গে কথা না বলে যে কেবল দিল্লিতে বসে যে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হবে, কল্পনা করতে পারেননি জম্মু -কাশ্মীরের নেতারাও। সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন মনে করেনি, কেন্দ্রের শাসক দল। একটি স্বাধীন রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। ২০১৯ -এর ৫ আগস্ট সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হবে। একটি হবে বিধানসভাযুক্ত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীর, অপরটি হবে বিধানসভাবিহীন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাক। আজ ৩৭০ প্রত্যাহারের ৪ বছর বাদ জম্মুর যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা চমকে দেওয়ার মত।
সরকারি তথ্য বলছে জম্মুতে ব্যাপকভাবে বাড়ছে সন্ত্রাসী কাজকর্ম।আরও পড়ুন:
২০১৯ এর ৫ আগস্ট থেকে ২০২৩ এর ১৬ জুন পর্যন্ত ২৩১ জন সন্ত্রাসবাদীর গ্রেফতারির তথ্য সামনে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৫ এর ২৭ অক্টোবর থেকে ২০১৯ এর ৪ আগস্ট পর্যন্ত জম্মুতে সন্ত্রাসী কাজকর্মে গ্রেফতারি থেকে বর্তমানে সেই গ্রেফতারি ৭১ শতাংশ বেড়েছে। ৩৭০ অনুচ্ছে প্রত্যাহারের পর কেবল জম্মুতে ৮ টি গ্রেনেড এবং ১৩ টি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)) বিস্ফোরণ হয়েছে। ২৭ অক্টোবর, ২০১৫ থেকে ৪ আগস্ট, ২০১৯ পর্যন্ত চারটি গ্রেনেড এবং সাতটি আইইডি হামলার তথ্য ছিল। ২০১৯-২৩ এর মধ্যে তা বেড়েছে ৭৩ শতাংশ।
অগ্নিসংযোগ ও অন্য হিংসাও এই চার বছরে বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের এলজি মনোজ সিনহা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে বিরোধীদের কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের। এনসি কিংবা পিডিপির নাম না করে তিনি বলেন , আসলে এখন কাশ্মীরের উন্নতি এবং সেখানকার শান্তি সহ্য করতে পারছেনা এখানকার কয়েকটি দল। তারা মানুষকে উস্কানি দিচ্ছেন রাস্তায় নামতে। বন্ধ করে দিতে চাইছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এলজি যতই কাশ্মীরের উন্নয়নের কথা বলুন না কেন, সেখানকার আজকের প্রজন্মের মধ্যে একটা তীব্র হতাশার জন্ম নিয়েছে।
মারাত্মকভাবে সেখানে বেড়েছে ড্রাগের নেশা। কেন্দ্রের শাসনে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। তারপরও পাকিস্তান থেকে সেখানে মাদক আসছে কি করে, সে প্রশ্ন উঠছে।শ্রীনগর ড্রাগ অ্যাডিকশন সেন্টারের মেডিকেল অফিসার ডা. সারা খালিদ বলেছেন, ‘অল্পবয়সীরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেকেই মাদকের ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখে পড়ে নিজেদের জীবন হারিয়েছে, পরিবারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের থেকেও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এখন মাদক সমস্যা। যা নতুন প্রজন্মকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এটি শুধু জম্মু ও কাশ্মীরের নয়, জাতির সঙ্কট।’