ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে বড় ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সন্ত্রাসবিরোধী প্রধান জোসেফ কেন্ট ইস্তফা দিয়েছেন। আর পদত্যাগের আগে তিনি যে অভিযোগ তুলেছেন, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের কথা জানান কেন্ট। তিনি লেখেন, অনেক ভেবেচিন্তে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ ইরানের বিরুদ্ধে চলা এই যুদ্ধকে তিনি সমর্থন করতে পারছেন না।
কেন্টের অভিযোগ, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাৎক্ষণিক কোনও বড় হুমকি ছিল না। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের চাপেই এই যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই মন্তব্যে কার্যত ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অর্থনীতিতেও—দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের, বাড়ছে সেনার ক্ষয়ক্ষতিও। এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও এই যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, এই যুদ্ধ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নয়, কৌশলে দেশটিকে এতে জড়িয়ে ফেলেছে ইসরায়েল। প্রশাসনের ভেতরেও ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাংশ থেকেও অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্টের পদত্যাগ ও বিস্ফোরক মন্তব্য ট্রাম্প সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।