পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালের অক্টোবর। যোগীরাজ্যের হাথরসের এক দরিদ্র পরিবারের দলিত  কিশোরীকে গণধর্ষণ করে মৃত্যুমুখে ফেলে রেখে গিয়েছিল তথাকথিত উচ্চবর্ণের চার যুবক। পরে দিল্লির হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সেই নারকীয় কাহিনি নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে।

খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পথেই গ্রেফতার হয়েছিলেন কেরলের সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পান। কিছুদিন পূর্বে তিনি জামিন পেয়েছেন।
তারপরেই সেই গণধর্ষণ মামলার রায় দিল হাথরস জেলা আদালত। তাতে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে গণধর্ষণে অভিযুক্ত তিন যুবককে।

প্রধান অভিযুক্ত সন্দীপ সিসোদিয়াকে দোষী সাব্যস্ত   করেছে আদালত। ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার নতুন প্রবণতা শুরু হয়েছে দেশে। গত বছরই গুজরাত দাঙ্গার  সময়ে ঘটা বিলকিস বানু ধর্ষণ মামলায় ১১ জন ‘সংস্কারী ব্রাহ্মণ’কে ছেড়ে দিয়েছে গুজরাত সরকার। এবার উত্তরপ্রদেশের আদালত ধর্ষণে অভিযুক্তদের ছেড়ে দিল।

সন্দীপকে অপরাধমূলক হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। আদালতের এই রায়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয় ধর্ষিতার পরিবার। তারা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে বলে জানা গিয়েছে।

যে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তারা হল রবি, রামু ও লবকুশ। দোষী সন্দীপের  সাজা পরে ঘোষণা  করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
১৯ বছরের দলিত মেয়েটিকে টেনেহিঁচড়ে ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে গিয়ে  গণধর্ষণ করা হয়। তারপর ধর্ষকরা তার গলা টিপে ধরে। এই গোটা ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের দিকে।

পরিবার অভিযোগ তুলেছিল, তাদের অনুমতি ছাড়াই ধর্ষিতার লাশ হাসপাতাল থেকে বার করে এনেছিল পুলিশ। তার পর মাঝরাতে দাহ করেছিল ক্ষেতে। সেখানে পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিল না। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে সিবিআই এই ধর্ষণ ও খুনের মামলাটির তদন্তভার নিয়েছিল।