২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্যাসস্ট্রো ও সার্জারি বিভাগ নেই, রোগী-রেফারই ভরসা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের

পুবের কলম প্রতিবেদক:  সার্জারি অথবা গ্যাসস্ট্রো রোগী এলে রেফার করতে হয় এনআরএস অথবা অন্যত্র। এবার কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে (চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল) চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের দাবি, এই কলেজে গ্যাসস্ট্রো অথবা সার্জারি বিভাগ নেই।

এখানে কলকাতা সহ সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বহু রোগী এই হাসপাতালে আসে। তাই এই হাসপাতালে গ্যাসস্ট্রো অথবা সার্জারি বিভাগ খোলা  হলে রোগীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি এই কলেজের পড়ুয়ারাদেরও সুবিধা হবে।

উল্লেখ্য,  ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের একাধিক বিভাগ খোলার জন্য আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে নারাজ। হাসপাতালের সেই কাজ আটকে রয়েছে। হাসপাতালের ছাত্র ও চিকিৎসকদের আরও বক্তব্য, আলিয়ার জমি জটে হাসপাতালের বিভাগ উন্নয়ন থমকে যেতে পারে না। এর জন্য বিকল্প কিছু ভাবনা-চিন্তা করা হোক। তাহলে এই হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হবে না।

এ দিকে, অভিযোগ উঠছে, এই হাসপাতালে প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, বন্ধ পার্কসার্কাস মেডিক্যাল কলেজের একাধিক বিভাগ। আর এতেই চরম হায়রানি রোগীদের।

চিকিৎসকের অভাবে কার্যত বেহাল অবস্থা পার্কসার্কাসের ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে। একধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিংসার জন্য হাসপাতালে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের। তবে এই বিষয়ে হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। হাসপাতালে একাধিক বিভাগ নেই। তাই সেই বিভাগের জন্য তো আলাদা চিকিৎসক থাকবেন না। এই হাসপাতালে এই বিভাগ ‘োলা হলে আরও চিকিৎসক প্রয়োজন হবে।

মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বড় অংশের মানুষ আসেন এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে। এ ছাড়া দক্ষিণ কলকাতা বাসিন্দারা এখানে চিকিৎসা করান। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে নেফ্রলজি, গ্যাসস্ট্রো এবং ক্যান্সার সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা।

প্রসঙ্গত. এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সিটিভিএস বিভাগ। ফলে হৃদরোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অস্ত্রোপচার বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসার আশায় এলেও তাঁদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শিশুদের শল্য চিকিৎসা বিভাগে একজন চিকিৎসক। ফলে এই বিভাগটি নির্ভর করছে ওই চিকিৎসকের উপর। শিশুদের অস্ত্রোপচারের তারিখ পেতে দিনের পর অপেক্ষা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্লাস্টিক সার্জারির মতো বিভাগে মাত্র ২ জন চিকিৎসক রয়েছেন। কার্ডিওলজিতে আরএমও এক জন, দু’জন চিকিৎসক রয়েছে। এই পরিস্থিতি কবে কাটবে সে ব্যাপারে কোনও দিশা নেই হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। এমন কি সুপারও জানেন না এই সমস্যার সমাধান কী ভাবে।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘আমায় বারবার অপমান করা হয়েছে’

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গ্যাসস্ট্রো ও সার্জারি বিভাগ নেই, রোগী-রেফারই ভরসা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৩, মঙ্গলবার

পুবের কলম প্রতিবেদক:  সার্জারি অথবা গ্যাসস্ট্রো রোগী এলে রেফার করতে হয় এনআরএস অথবা অন্যত্র। এবার কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে (চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল) চিকিৎসক ও পড়ুয়াদের দাবি, এই কলেজে গ্যাসস্ট্রো অথবা সার্জারি বিভাগ নেই।

এখানে কলকাতা সহ সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বহু রোগী এই হাসপাতালে আসে। তাই এই হাসপাতালে গ্যাসস্ট্রো অথবা সার্জারি বিভাগ খোলা  হলে রোগীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি এই কলেজের পড়ুয়ারাদেরও সুবিধা হবে।

উল্লেখ্য,  ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের একাধিক বিভাগ খোলার জন্য আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে নারাজ। হাসপাতালের সেই কাজ আটকে রয়েছে। হাসপাতালের ছাত্র ও চিকিৎসকদের আরও বক্তব্য, আলিয়ার জমি জটে হাসপাতালের বিভাগ উন্নয়ন থমকে যেতে পারে না। এর জন্য বিকল্প কিছু ভাবনা-চিন্তা করা হোক। তাহলে এই হাসপাতালের রোগীদের অন্যত্র পাঠাতে হবে না।

এ দিকে, অভিযোগ উঠছে, এই হাসপাতালে প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, বন্ধ পার্কসার্কাস মেডিক্যাল কলেজের একাধিক বিভাগ। আর এতেই চরম হায়রানি রোগীদের।

চিকিৎসকের অভাবে কার্যত বেহাল অবস্থা পার্কসার্কাসের ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে। একধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনও চিকিৎসক নেই। ফলে চিকিংসার জন্য হাসপাতালে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগী ও রোগীর আত্মীয়দের। তবে এই বিষয়ে হাসপাতালের এক আধিকারিক বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। হাসপাতালে একাধিক বিভাগ নেই। তাই সেই বিভাগের জন্য তো আলাদা চিকিৎসক থাকবেন না। এই হাসপাতালে এই বিভাগ ‘োলা হলে আরও চিকিৎসক প্রয়োজন হবে।

মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার বড় অংশের মানুষ আসেন এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে। এ ছাড়া দক্ষিণ কলকাতা বাসিন্দারা এখানে চিকিৎসা করান। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে নেফ্রলজি, গ্যাসস্ট্রো এবং ক্যান্সার সার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা।

প্রসঙ্গত. এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে সিটিভিএস বিভাগ। ফলে হৃদরোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অস্ত্রোপচার বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসার আশায় এলেও তাঁদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শিশুদের শল্য চিকিৎসা বিভাগে একজন চিকিৎসক। ফলে এই বিভাগটি নির্ভর করছে ওই চিকিৎসকের উপর। শিশুদের অস্ত্রোপচারের তারিখ পেতে দিনের পর অপেক্ষা করতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, প্লাস্টিক সার্জারির মতো বিভাগে মাত্র ২ জন চিকিৎসক রয়েছেন। কার্ডিওলজিতে আরএমও এক জন, দু’জন চিকিৎসক রয়েছে। এই পরিস্থিতি কবে কাটবে সে ব্যাপারে কোনও দিশা নেই হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। এমন কি সুপারও জানেন না এই সমস্যার সমাধান কী ভাবে।