পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমা গণমাধ্যমকে আবারও একহাত নিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এক নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তুরস্কের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তুর্কি জনগণ, পশ্চিমারা আমাদের ভাগ্য বদলাতে পারবে না।’ ১৪ মে অর্থাৎ আজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে পশ্চিমা গণমাধ্যম এরদোগান-বিরোধী ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে।

এরদোগান জনসভায় বলেন, ‘জার্মানি, ফ্রান্স  ও আমেরিকার পত্রিকাগুলো যেন আদা-জল খেয়ে আমার পেছনে লেগেছে।’ সম্প্রতি ব্রিটিশ সাপ্তাহিক ইকোনোমিস্ট কভার পেজে হেডিং করেছে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’, ‘এরদোগান মাস্ট গো’ ও ‘ভোট’। ফরাসি পত্রিকা লা পয়েন্ট এবং লা এক্সপ্রেস ম্যাগাজিনেও একই ধরনের এরদোগান-বিরোধী খবর ও মতামত ছাপা হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগানের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমাপন্থী কামাল কিলিচদারোগ্লু।
তিনি ন্যাটো সদস্যভুক্ত তুরস্ককে আরও পশ্চিমা ঘেঁষা করতে চান। দেশে সংসদীয় ও প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং স্বাধীন আদালত ও একটি উন্মুক্ত গণমাধ্যম ব্যবস্থা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কামালের অভিযোগ, এরদোগানকে নির্বাচনে জয়ী করতে কাজ করছে রাশিয়া। তুরস্কের নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন।
মতাদর্শের দিক থেকে দুই প্রেসিডেন্টে প্রার্থীর অবস্থান পুরোপুরি উল্টো। ২০ বছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের এবারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি একটি শক্তিশালী, বহুপাক্ষিক তুরস্ক গঠন ও ৬০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করা। এরদোগানের অভিযোগ, তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করছে পশ্চিমারা।

ধারণা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে তরুণ ভোটাররা, যাদের সংখ্যা প্রায় ৫০ লক্ষ। এছাড়াও এতে ভূমিকা রাখতে পারে নারী ভোটাররাও। তুরস্কের ভোটারদের মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ৫০.৬ শতাংশ।