যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার ক্ষমতা বহাল রেখেছে। তবে একইসঙ্গে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন:
ছয়-তিন ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের অধীনস্থ নির্বাহী কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। ডেমোক্রেটিক নেতা রেবেকা স্লটারের করা আপিল খারিজ করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় আইনি সাফল্য।
প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এই রায় তাঁর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। রায়ের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেন।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর লিসা কুককে নিয়ে করা পৃথক মামলায় ভিন্ন অবস্থান নেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাঁচ-চার ভোটের রায়ে আদালত জানায়, যথাযথ কারণ এবং নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো গভর্নরকে অপসারণ করা যাবে না।
আদালত আরও উল্লেখ করে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির মুদ্রানীতি নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন:
এছাড়া আদালত জানায়, লিসা কুকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁকে যথাযথভাবে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন:
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লিসা কুক বলেন, এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত নীতিনির্ধারণের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে এনেছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, অতীতে সুদের হার কমানোর দাবিতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। আর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘ ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।