পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ক্রমশই দুর্বিষহ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে শ্রীলঙ্কা। অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।  দেশের মানুষের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ। শ্রীলঙ্কায় আর্থিক বিপর্যয়ের  কারণে পদত্যাগ করেছিল গোটা মন্ত্রিসভা। এর পরেও বিক্ষোভ থামেনি।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শ্রীলঙ্কার নাগরিকরা।

এই পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করলেন শ্রীলঙ্কা প্রেসিডেন্ট। নতুন করে আবারও ১৭ জন মন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বেশ কিছু তরুণ মুখকে  সুযোগ দেওয়া হয়েছে নতুন ক্যাবিনেটে।

ক্যাবিনেট গঠনের পরে প্রেসিডেন্ট  গোতাবায়া রাজাপক্ষে বিশেষ বার্তা দেন নতুন মন্ত্রীদের।

দেশের অধিকাংশ সংস্থা আর্থিক দুর্দশায় ভুগছে সে কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, 'দেশের নতুন মন্ত্রীদের সমর্থন করুন সকলে। মন্ত্রিত্ব মানেই সুযোগ সুবিধা নেওয়া নয়। মন্ত্রীদের উপরে অনেক দায়িত্ব থাকে। নতুন মন্ত্রীরা নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না।'

গত ৩ এপ্রিল অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে মন্ত্রিসভার ২৬ সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেন।
এই পদত্যাগকারী মন্ত্রীদের  মধ্যে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নামাল রাজাপক্ষে। উল্লেখযোগ্য ভাবে নতুন ক্যাবিনেটে রাজাপক্ষে পরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কোনও সদস্য নেই। এই নতুন মন্ত্রিসভায় পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য চামাল  রাজাপক্ষে এবং মাহিন্দার ছেলে নামাল রাজাপক্ষে স্থান পাননি।

উল্লেখ্য, দুই কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে বিপর্যস্ত জনজীবন। আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি,  দুর্বল সরকারি অর্থব্যবস্থা এবং করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ধুঁকছে দেশ। মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ মাসের শুরুর দিকে  পদত্যাগ করলেও গোতাবায়া রাজাপক্ষে এবং তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী  মাহিন্দা রাজাপক্ষে পদ আঁকড়ে পড়ে ছিলেন। হাজার হাজার মানুষ দেশব্যাপী বিক্ষোভ করলে জরুরি অবস্থা এবং কারফিউ জারি করা হয়।