কংগ্রেস কি নতুন মুসলিম লিগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলেছেন অসমের নেতা বদরুদ্দীন আজমল। সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় মুসলিম প্রার্থীদের প্রাধান্যই বেশি ছিল। কেরলমে মোট ৩৫ জন মুসলিম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ জনই ইউডিএফের। ২২ জন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন অফ মুসলিম লিগের, ৮ জন কংগ্রেসের। বাকি ৫ জন বাম দলের।

অসমে ২০ মুসলিম প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছিল কংগ্রেস। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন জিতেছেন। অসমে কংগ্রেসের শরিক দল রৈজোর দলের ২ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ জন মুসলিম। কংগ্রেস অমুসলিম যে ৭৯ জনকে প্রার্থী করেছিল, তাঁদের মধ্যে জিতেছেন মাত্র একজন। এইউডিএফ এর সভাপতি বদরুদ্দীন আজমল বলেছেন, কংগ্রেস অসমে শেষ হয়ে গিয়েছে। পরিবর্তে মুসলিম লিগ হয়ে টিঁকে রয়েছে।
যারা অন্যদের জন্য কূপ খনন করছে তাঁরা নিজেরাই সেই কূপে পড়ে যাচ্ছে। কংগ্রেস এইউডিএফকে হারাতে গিয়ে নিজেই শেষ হয়ে গিয়েছে। শেষে মুসলিম লিগে পরিণত হতে হল কংগ্রেসকে। আমার দু:খ হয় ওদের কথা ভেবে। অসমের গৌরীপুরে কংগ্রেসের প্রার্থী আবদুল সোবাহান আলি সরকার বিজেপি জোটের শরিক এইউডিএফ প্রার্থী নিজানুর রহমানকে ১৯০৯৭ ভোটে পরাস্ত করেছেন। আবার জলেশ্বর কেন্দ্রে কংগ্রেসের আফতাব মোল্লা এইউডিএফ নেতা শেখ আলমকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৮৮ ভোটে পরাস্ত করেছেন। সামাগুড়িতে কংগ্রেসের তানজিল হুসেন বিজেপির অনিল সইকিয়াকে ১ লক্ষ ৮ হাজার ৩১০ ভোটে পরাস্ত করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস যে দুটি আসনে জয়ী হয়েছে দুটিই মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এর চেয়ে বেশি মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস দুজন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল। একজন জিতেছেন। দেখা যাচ্ছে, অসমে ও কেরলমে ৮০ শতাংশ মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস। কেরলের কোঝিকোড়ে পেরাম্বা কেন্দ্র থেকে  মুসলিম লিগের প্রার্থী ফতিমা তাহিলিয়া ৫০০০ এর বেশি ভোটে জিতেছেন। তিনিই প্রথম মুসলিম লিগের মহিলা বিধায়ক। অসমে বিজেপি ৩৭.৮১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। কংগ্রেস পেয়েছে ২৯.৮৪ শতাংশ ভোট। কেরলমে কংগ্রেস ও শরিকরা মিলে ৩৯.৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।