২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শনিবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিধানসভায় ধুন্ধুমারঃ পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা বিজেপির, ভাষণের প্রথম ও শেষ লাইন পড়ার জন্য রাজ্যপালকে ধন্যবাদঃ মুখ্যমন্ত্রী

ছবি-খালিদুর রহিম

পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ বিধানসভার প্রথম দিনের শুরু হতে না হতেই বিজেপির বিক্ষোভের জেরে তা ভেস্তে গেল। পুরো ভাষণই দিতে পারলেন না রাজ্যপাল ধনকর। ভাষণের প্রথম ও শেষলাইন পড়েই কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা। এই ধরনের আগেও কোথায় দেখিনি। বিধানসভায় অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল। রাজ্যপাল আজ ভাষণ না পড়েই চলে যাচ্ছিলেন। তৃণমূল বিধায়করা তাকে বার বার কক্ষ না ত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। আসলে বিজেপি গণতন্ত্র মানে না। আমরা রাষ্ট্রপতিকেও সম্মান জানাই। তবে রাজ্যপালকে ধন্যবাদ। উনি ভাষণের প্রথম ও শেষ লাইন পড়েছিলেন।

বিধানসভায় ধুন্ধুমারঃ পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা বিজেপির, ভাষণের প্রথম ও শেষ লাইন পড়ার জন্য রাজ্যপালকে ধন্যবাদঃ মুখ্যমন্ত্রী

আরও পড়ুন: ঘৃণাভাষণে রাশ টানল কর্নাটক সরকার, বিজেপির আপত্তি উড়িয়ে বিধানসভায় পাশ বিদ্বেষ ভাষণ প্রতিরোধ আইন

মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, বিজেপি  আজ অসভ্য ও অভদ্রতা করল। রাজ্যপাল যাতে ভাষণ না পড়তে পারেন, তার জন্য বিজেপি এই বিক্ষোভ দেখিয়েছি।

আরও পড়ুন: দুর্যোগে বিপর্যস্ত মিরিকে মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস মমতার

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারেনি বিজেপি, তাই এবার হেরে গিয়ে নাটক করছে বিজেপি।

আরও পড়ুন: বিধানসভাতে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী আসা নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের

আজ থেকে শুরু হয় বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বিধানসভার তরফে জানানো হয়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের বক্তব্য সরাসসি সম্প্রচারিত করা সম্ভব হবে না। এর কারণ হিসেবে বিধানসভার তরফে জানানো হয়, যেহেতু রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে কোনও চ্যানেল নেই তাই এই প্রচার করা সম্ভব নয়। গতকালই রাজ্যপাল বলেন,  নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপালের ভাষণ সরাসরি প্রচারের নিয়ম। কিন্তু বিধানসভার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যপালের প্রচার সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব নয়। আজ অধিবেশন শুরু হয় দুপুর ২ টো নাগাদ। শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। তবে এই বৈঠকে যোগ দেয়নি বিজেপি।

অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ আগে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর আসেন। সেখানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে স্বাগত জানান। রাজ্যপাল প্রথমেই আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। প্রথা অনুযায়ী আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করার নিয়ম। সেই প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপাল মাল্যদান করেন। এর পর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে সঙ্গে করে বিধানসভার ভিতর পর্যন্ত নিয়ে যান।

এদিকে বিধানসভা শুরু হতেই তুমুল হৈ-হট্টোগোল শুরু করে বিজেপি। বিধানসভার ওয়েলে নেমে পুরভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি বিধাকরা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে চলে বিক্ষোভ। অধিবেশন দুপুর ২টোয় শুরু হলেও প্রায় একঘন্টা ধরে চলে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে ভাষণ শুরু করতে অনুরোধ করেন।

এদিকে বিজেপির বিক্ষোভে কক্ষ ছেড়ে যেতে উদ্যোগ নেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এই সময়ে তৃণমূলের বিধায়করা তাঁকে কক্ষ না ছাড়তে অনুরোধ করেন। পরে ভাষণের প্রথম ও শেষলাইন পড়ে এদিন বিধানসভার কক্ষ ত্যাগ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তুমুল নাটকীয়ভাবে এদিন শেষ হয় বিধানসভার অধিবেশন।

 

সর্বধিক পাঠিত

যুদ্ধের আশঙ্কা: এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর সমস্ত উড়ান স্থগিত, ইজ়রায়েলে ভারতীয়দের জন্য সতর্কতা

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিধানসভায় ধুন্ধুমারঃ পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা বিজেপির, ভাষণের প্রথম ও শেষ লাইন পড়ার জন্য রাজ্যপালকে ধন্যবাদঃ মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট : ৭ মার্চ ২০২২, সোমবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ বিধানসভার প্রথম দিনের শুরু হতে না হতেই বিজেপির বিক্ষোভের জেরে তা ভেস্তে গেল। পুরো ভাষণই দিতে পারলেন না রাজ্যপাল ধনকর। ভাষণের প্রথম ও শেষলাইন পড়েই কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা। এই ধরনের আগেও কোথায় দেখিনি। বিধানসভায় অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটল। রাজ্যপাল আজ ভাষণ না পড়েই চলে যাচ্ছিলেন। তৃণমূল বিধায়করা তাকে বার বার কক্ষ না ত্যাগ করতে অনুরোধ করেন। আসলে বিজেপি গণতন্ত্র মানে না। আমরা রাষ্ট্রপতিকেও সম্মান জানাই। তবে রাজ্যপালকে ধন্যবাদ। উনি ভাষণের প্রথম ও শেষ লাইন পড়েছিলেন।

বিধানসভায় ধুন্ধুমারঃ পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা বিজেপির, ভাষণের প্রথম ও শেষ লাইন পড়ার জন্য রাজ্যপালকে ধন্যবাদঃ মুখ্যমন্ত্রী

আরও পড়ুন: ঘৃণাভাষণে রাশ টানল কর্নাটক সরকার, বিজেপির আপত্তি উড়িয়ে বিধানসভায় পাশ বিদ্বেষ ভাষণ প্রতিরোধ আইন

মুখ্যমন্ত্রী তীব্র ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, বিজেপি  আজ অসভ্য ও অভদ্রতা করল। রাজ্যপাল যাতে ভাষণ না পড়তে পারেন, তার জন্য বিজেপি এই বিক্ষোভ দেখিয়েছি।

আরও পড়ুন: দুর্যোগে বিপর্যস্ত মিরিকে মুখ্যমন্ত্রী, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস মমতার

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিজের ওয়ার্ডে জিততে পারেনি বিজেপি, তাই এবার হেরে গিয়ে নাটক করছে বিজেপি।

আরও পড়ুন: বিধানসভাতে বিধায়কদের নিরাপত্তারক্ষী আসা নিয়ে প্রশ্ন হাই কোর্টের

আজ থেকে শুরু হয় বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বিধানসভার তরফে জানানো হয়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের বক্তব্য সরাসসি সম্প্রচারিত করা সম্ভব হবে না। এর কারণ হিসেবে বিধানসভার তরফে জানানো হয়, যেহেতু রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে কোনও চ্যানেল নেই তাই এই প্রচার করা সম্ভব নয়। গতকালই রাজ্যপাল বলেন,  নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপালের ভাষণ সরাসরি প্রচারের নিয়ম। কিন্তু বিধানসভার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যপালের প্রচার সরাসরি সম্প্রচার করা সম্ভব নয়। আজ অধিবেশন শুরু হয় দুপুর ২ টো নাগাদ। শুরুর আগে সর্বদলীয় বৈঠক হয়। তবে এই বৈঠকে যোগ দেয়নি বিজেপি।

অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ আগে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর আসেন। সেখানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে স্বাগত জানান। রাজ্যপাল প্রথমেই আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন। প্রথা অনুযায়ী আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করার নিয়ম। সেই প্রথা অনুযায়ী রাজ্যপাল মাল্যদান করেন। এর পর আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে সঙ্গে করে বিধানসভার ভিতর পর্যন্ত নিয়ে যান।

এদিকে বিধানসভা শুরু হতেই তুমুল হৈ-হট্টোগোল শুরু করে বিজেপি। বিধানসভার ওয়েলে নেমে পুরভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি বিধাকরা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে চলে বিক্ষোভ। অধিবেশন দুপুর ২টোয় শুরু হলেও প্রায় একঘন্টা ধরে চলে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে ভাষণ শুরু করতে অনুরোধ করেন।

এদিকে বিজেপির বিক্ষোভে কক্ষ ছেড়ে যেতে উদ্যোগ নেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। এই সময়ে তৃণমূলের বিধায়করা তাঁকে কক্ষ না ছাড়তে অনুরোধ করেন। পরে ভাষণের প্রথম ও শেষলাইন পড়ে এদিন বিধানসভার কক্ষ ত্যাগ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। তুমুল নাটকীয়ভাবে এদিন শেষ হয় বিধানসভার অধিবেশন।