পুবের কলম, প্রতিবেদক: যায়নবাদী, যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র ইসরাইল কথিত সভ্য দুনিয়ার চোখের সামনে যে জেনোসাইড বা গণহত্যা সংগঠিত করেছে, তা টিভির পর্দায় সারা বিশ্বের মানুষ বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিদিন লক্ষ্য করে যাচ্ছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধের হত্যাযজ্ঞ এবং মানুষের বাসস্থান, হাসপাতাল-সহ রুজি-রোজগারের সব পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার ঘটনাকে ‘হত্যাযজ্ঞ’ বলতে রাজি নয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স প্রভৃতি মানবাধিকারের ধ্বজাধারী খ্রিস্টান রাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
ইসরাইলের নৃশংস রাষ্ট্রটি মানুষ হত্যার বর্বরতা এবং অবরুদ্ধ গাজার প্রায় ২৩ লক্ষ শিশু, নারীকে খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে এবং ক্ষুধা-অস্ত্র ব্যবস্থা করে যেভাবে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করেছে, তা পৃথিবীর মানুষ লক্ষ্য করছে। তাই পশ্চিমা শাসকরা দৃঢ়ভাবে কুখ্যাত খুনি নেতানিয়াহু এবং যায়নবাদী সেনাদের গণহত্যাকে সমর্থন করছে। শুধু তাই নয়, তারা ইসরাইলি কিলিং মেশিনকে লাগাতার ভয়াবহ মারণাস্ত্র এবং অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে। ঘোষণা-বিহীনভাবে হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানবাহিনীর কমান্ডোরা গণহত্যাকারী ইসরাইলের পক্ষে সরাসরি লড়াইতে মদদও দিচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তবে পশ্চিমা শাসকরা নিজেদের স্বার্থে এই গণহত্যায় সমর্থন ও সহায়তা দিলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু ইসরাইলের চরম বিরোধী হয়ে উঠেছে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছে, যদিও গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পূজারি এইসব রাষ্ট্র মানুষের প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনকে পুলিশ, মিলিটারি ব্যবহার করে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করে বা অন্যকোনোভাবে দমন করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুন:
তাই দুনিয়ার বিবেকবান মানুষরা ইসরাইলি ও পশ্চিমা প্রচার যন্ত্রের কথা আর বিশ্বাস করছে না। তারা সত্যকে উপলব্ধি করেছে। তাই সারা বিশ্বের মানুষের কাছে নেতানিয়াহু এখন ‘অস্পৃশ্য’।
ইসরাইলের শাসকরা এখন বড়ই একা। তাদের বয়কট করা হচ্ছে বিভিন্নভাবে।আরও পড়ুন:
এরই একটি নজির পাওয়া গেছে সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের রাজধানী আমস্টারডাম থেকে। ইসরাইলি ফুটবল দল ডাচ ক্যাপিট্যাল আমস্টারডামে ইউরোপা লিগ ম্যাচ খেলতে এসেছে। কিন্তু আমস্টারডামের সাধারণ মানুষ তাদের মাটিতে নারী-শিশুদের ঘাতক ইসরাইলের ফুটবল টিমকে বরদাস্ত করতে নারাজ। খেলার সময় আমস্টারডামের স্টেডিয়ামে দর্শকদের হাতে খেলা উপভোগ করতে আসা ইসরাইলি ফ্যান বা সমর্থকরা আক্রান্ত হন।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, হাঙ্গামার ফলে আপাতত ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে আহতের সংখ্যা আরও বেশি হবে। ইসরাইল আমস্টারডামে বিমান পাঠিয়েছে, যাতে এই বিমানে করে উদ্ধারকৃত ইসরাইলিরা তেলআবিবে ফিরে আসতে পারে। কম করে ৬২ জনকে ইসরাইলি ফ্যানদের উপর আক্রমণের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বিকল্প মিডিয়ার খবরে আরও বলা হয়েছে, প্রথমে ইসিরাইলি ফ্যান এবং নেদারল্যান্ডে বসবাসকারী ইহুদিরা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক শ্লোগান দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এদিকে ৫ জন ইসরাইলি আহত হওয়ায় সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে। বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং ইসরাইলি গণহত্যার সবথেকে বড় সমর্থক খোদ বাইডেন এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা সেই নিকষ কালো অন্ধকার মুহূর্তগুলির প্রতিধ্বনি যখন ইহুদিদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ডাচ সরকারের সঙ্গে এই ঘটনা নিয়ে যোগাযোগে রয়েছেন। প্রায় একই ধরনের কথা বলেছেন নেদারল্যান্ডের রাজা মহাশয়ও। তিনি ইসরাইলি ফ্যানদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।
আরও পড়ুন:
ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারযোগ বলেছেন, ইসরাইলি নাগরিক এবং সফররত ফ্যানদের উপর পগ্রোম বা গণহত্যা চালানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, নেদারল্যান্ড সরকারের উচিত ইসরাইলি এবং ইহুদিদের অবিলম্বে খুঁজে চিহ্নিত করে তাদের সুরক্ষা এবং প্রয়োজনে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা। আমস্টারডামের মেয়র ফেমকে হালসেমা বলেছেন, ইহুদিদের উপর আক্রমণে তিনি ঘোরতর লজ্জিত। তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি ফ্যানদের আক্রমণ করা হয় অকথ্য গালিগালাজও চলে এবং তাদের উপর তুবড়ি ছুঁড়ে মারা হয়।
আরও পড়ুন:
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের রাজা, মহারাজা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরা এই ঘটনার ঘোরতর নিন্দা করেছেন। সাংবাদিকরা মেয়রকে জিজ্ঞাসা করেন যে, আমস্টারডাম শহরে একটি ফিলিস্তিনি পতাকা ছিড়ে নামানো হয়েছিল ওইদিনই।
এই ঘটনা কী ওই অশান্তির জন্য দায়ী? মহিলা মেয়র বলেন, তিনি মনে করে এই ঘটনা হাঙ্গামার জন্য দায়ী এ কথা মনে করার কারণ নেই।আরও পড়ুন:
এদিকে ইসরাইলের শিশু-ঘাতক প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এই আক্রমণের ঘটনার নিন্দা করেছেন। ইসরাইলের সুরক্ষামন্ত্রী নেদারল্যান্ড সরকারকে বলেছেন, তারা নিশ্চিত করে যে কোনও ইসরাইলি যেন আক্রান্ত না হয়। আর তাদেরকে যেন পুলিশি সুরক্ষা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
এদিকে ওয়াকিফহাল মহল বলছেন, ফুটবল মাঠে এই ধরনের গণ্ডগোল বা এর থেকেও মারাত্মক অশান্তি সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু তা নিয়ে এত বিশ্ব কাঁপানো প্রতিক্রিয়া হয় না। গাজা, পশ্চিম তীর, লেবাননে ইসরাইলিরা যে গণহত্যা চালাচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বের নেতৃবৃন্দ তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। এই ঘটনাকে বলা হচ্ছে বর্বর, নৃশংসতা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে গাজার নিধনযজ্ঞকে কী বিশেষণে অভিহিত করা যায়? তবে দুনিয়া জুড়ে ইসরাইলিরা যে ক্রমেই একঘরে এবং মানুষের ঘৃণার পাত্র হয়ে উঠছে, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমস্টারডামের ঘটনাও তারই প্রমাণ।