পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক গান ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নিয়ে একটি উদ্বেগজনক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। ইউটিউব, মেটা, স্পটিফাই এবং অ্যাপল মিউজিকের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোতে এমন অনেক গান রয়েছে যা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হিংসা ছড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এই গানগুলো সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব নীতিমালাকে সরাসরি লঙ্ঘন করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না, যা জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:
ওয়াশিংটনের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (সিএসওএইচ) সোমবার এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে গবেষকরা মোট ৫২৩টি বিদ্বেষমূলক গান চিহ্নিত করেছেন, যার মূল লক্ষ্য মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘুরা।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি দুটি গানের মধ্যে অন্তত একটিতে সরাসরি হিংসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ২১০টি গানের মধ্যে ১০৪টি গানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা বা সহিংসতার হুমকি দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে শুধু ইউটিউবেই এই ধরনের বিদ্বেষমূলক গান ১৯ কোটি ৮০ লক্ষেরও বেশিবার দেখা হয়েছে। অন্যদিকে, মেটার মিউজিক লাইব্রেরিতে থাকা গানগুলো ৫.৯ মিলিয়নেরও বেশি ইনস্টাগ্রাম রিলে ব্যবহৃত হয়েছে।আরও পড়ুন:
গবেষণায় আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, বিদ্বেষমূলক ও হিংসাত্মক ভিডিওগুলোর সঙ্গে ১০৩টি বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে, যার মধ্যে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিজ্ঞাপনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউটিউবের সুপার থ্যাঙ্কস ফ্যান-ফান্ডিং ফিচারটি ৫৫ শতাংশ নিয়ম লঙ্ঘনকারী ভিডিওতে সক্রিয় ছিল, যার ফলে নির্মাতারা দর্শকদের কাছ থেকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এমনকি একাধিক বিদ্বেষমূলক গান আপলোড করা একটি চ্যানেলকে ইউটিউবের সিলভার ক্রিয়েটর অ্যাওয়ার্ডও প্রদান করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এনিয়ে বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে উত্তর প্রদেশের বাহরাইচে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক একটি গান বাজানোকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। সংস্থার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রাকিব নায়েক জানিয়েছেন, সঙ্গীতের মাধ্যমে হিংসা ছড়ানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই এই ধরনের বিদ্বেষমূলক গান রুখতে সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা আরও কঠোর করা প্রয়োজন বলে সংস্থাটি মনে করে।