পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মোটা বেতনের টোপ দিয়ে ওমানে নিয়ে গিয়ে এক মহিলাকে দিনের পর দিন চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল। হায়দরাবাদের বাসিন্দা ওই মহিলার দাবি, সেখানে তাঁকে দিয়ে প্রতিদিন টানা ১৫ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে এবং বিশ্রামের কোনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে হাড়ভাঙা খাটুনির পরও তাঁকে কোনও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, গত ২৬ মার্চ এক স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে পরিচারিকার কাজ নিয়ে ওমানের মাস্কাটে পাড়ি দিয়েছিলেন শবনম বেগম নামে ওই মহিলা।
ওই এজেন্টের তরফ থেকে তাঁকে মাসে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরেই তাঁর পাসপোর্ট আটকে রাখেন এজেন্টরা। শবনমের অভিযোগ, মাস্কাটের ওই বাড়িতে তাঁকে দিয়ে দিনরাত একনাগাড়ে অমানবিক পরিশ্রম করানো হচ্ছে। এমনকি তাঁকে ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয় না। পাশাপাশি তাঁর উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এই তিন মাস ধরে তিনি কার্যত বন্দিদশাতেই দিন কাটাচ্ছেন।আরও পড়ুন:
এই চরম পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি হায়দরাবাদের এক স্থানীয় রাজনীতিবিদের কাছে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কাতর আর্জি জানিয়েছেন শবনম। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওই মহিলার পরিবারও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। শবনমকে যাতে দ্রুত ওমান থেকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে তাঁর পরিবার।