দেবশ্রী মজুমদার, বোলপুর: অনেক জায়গাই ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নেশামুক্তি কেন্দ্র। চিকিৎসার নাম করে যে অর্থ তারা নেয় তার সার্থক ব্যয় কতটা তারা করে প্রশ্ন উঠেছে তাদের অমানবিক আচরণের কারণে। এই রকম একটি নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে এক পরিবার। কারণ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এক ছেলেকে সুস্থ করার জন্য পরিবারের তরফে ভর্তি করা হয় ভেদিয়ার বাগবাটির সাহারা নেশা মুক্তি কেন্দ্রে।
আরও পড়ুন:
বোলপুর শুড়িপাড়ার বাসিন্দা বছর তিরিশেকের সুরেশ ভকত। পরিবারের তরফে জানানো হয় যে, তারা ভেবেছিলেন এই নেশা মুক্তি কেন্দ্রে দিলে সুস্থ হয়ে যাবে তাদের ছেলে।
অভাবের সংসার তা সত্ত্বেও প্রতিমাসে চার হাজার টাকা ব্যয় নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করেছিল ছেলে সুরেশকে। দুমাস যেতে না যেতেই সুস্থ করে আনবে বলে মনে ছিল আশা। কিন্তু মৃত ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে হবে কখনো স্বপ্নে ভাবতে পারেননি তারা।আরও পড়ুন:
গত শনিবার সুরেশের পরিবারকে ফোন করা হয় মুক্তি কেন্দ্র থেকে। জানানো হয়, ছেলে অসুস্থ আছে নিয়ে যান। তবে সঙ্গে টাকাটা আনবেন।
সঙ্গে সঙ্গে চার হাজার টাকা জোগাড় করতে পারেনি পরিবার। আজ অর্থাৎ সোমবার সেই অর্থ যোগাড় করে নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ছুটে যান সুরেশ ভগতের মা ও বোন। টাকা হাতে পেয়ে সুরেশকে নিয়ে আসে হুইল চেয়ারে করে। মা ও বোন দেখেই হতবাক তারা।আরও পড়ুন:
নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষর কাছে পরিবারের তরফে জানতে চাওয়া হয়, কি হয়েছে সুরেশের। তারা জানায়, অজ্ঞান হয়ে গেছে।
তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। ঠিক হয়ে যাবে। তবে সঙ্গে নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কোন কর্মী সুরেশে ও তার পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে আসেনি। অসহায় মা ও বোন সুরেশ কে হাসপাতালে নিয়ে এলে হাসপাতালে চিকিৎসকরা সুরেশকে মৃত বলে ঘোষণা করে।আরও পড়ুন:
চিকিৎসকরা জানায়, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে সুরেশের। এরপর কান্নায় ভেঙে পড়েন মা ও বোন। মৃতদেহটি বোলপুর মহাকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।