যদি সত্যিই ‘সবকা বিকাশ’ চান
নয়াদিল্লি: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এসসি, এসটি, ওবিসি এবং প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের প্রাক্-ম্যাট্রিক বৃত্তি বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আপনার সরকার দেশের এসসি, এসটি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বন্ধ করেছে। এই লজ্জাজনক সরকারি পরিসংখ্যান দেখায় যে মোদি সরকার কেবল সমস্ত বৃত্তিতে ব্যাপক হ্রাসই করেনি বরং বছরের পর বছর গড়ে ২৫ শতাংশ কম তহবিল ব্যয় করেছে। যদি দেশের দুর্বল অংশের শিক্ষার্থীরা সুযোগ না পায় এবং তাদের দক্ষতাকে উৎসাহিত না করা হয়, তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের দেশের যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারব?’
২০২৫ সালের শিক্ষা বাজেটে তপশিলি উপজাতি (এসটি), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি), তপশিলি জাতি (এসসি) এবং সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসটি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য জাতীয় ফেলোশিপ এবং বৃত্তি ৯৯.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যা ২৫০ কোটি টাকা থেকে মাত্র ২ লক্ষ টাকায় নেমে এসেছে। সংখ্যালঘুদের জন্য প্রাক্-ম্যাট্রিক এবং ম্যাট্রিক-পরবর্তী বৃত্তি যথাক্রমে ৪০ শতাংশ এবং ৬৩.৪ শতাংশ কমানো হয়েছে।
মোদি সরকারের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানটি প্রাথমিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছিল। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য। কিন্তু এসসি, এসটি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক বাজেট হ্রাস সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। আর্থিক সহায়তা হ্রাস করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ দিকে, সরকার বলে আসছে যে উন্নত দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য সম্পদ পুনর্বণ্টন করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বাজেটে সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জন্য বৃত্তির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে হ্রাসের কারণে সরকার তাদের শিক্ষা এবং উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। ভারতে প্রায় ২০ কোটি মুসলিম বসবাস করে। এরফলে তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগকে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করছে। সমালোচকরা এই নীতিগুলিকে শাসক দলের হিন্দুত্ববাদী আদর্শের প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন। প্রাক্-ম্যাট্রিক বৃত্তি প্রকল্পটি সংশোধন করার ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে যে, শিক্ষার অধিকার আইনের অধীনে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষা ইতিমধ্যেই বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। তাই অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা অপ্রয়োজনীয়।
এই নীতিগত পরিবর্তন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, সমালোচকরা যুক্তি দিচ্ছেন যে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা এখনও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। যা পূর্বে বৃত্তির মাধ্যমে প্রশমিত করা হত। তবে প্রাক্-ম্যাট্রিক বৃত্তি বন্ধ করা হলেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী এসসি, এসটি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যান্য বৃত্তি কার্যক্রম চালু রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জাতীয় বিদেশি বৃত্তি এই সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনে সহায়তা করে চলেছে।























