পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: রবিবার সন্ধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ মোদির। শুক্রবার বিকেল ৫ টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে সরকার গঠনে দাবি জানাবে এনডিএ শিবির। সেখানে বিজেপি-সহ এনডিএ-র ২৯৩ জন সাংসদের সই সম্বলিত সমর্থনপত্র পেশ করবেন নরেন্দ্র মোদি।
আরও পড়ুন:
দেশজুড়ে গেরুয়া ঝড় না উঠলেও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জৌলুসে খামতি রাখা হচ্ছে না। নমোর শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতাদের। জয়ের পর মোদিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোগবে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিংহে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক-সহ আরও অনেকে। জানা গিয়েছে, শুক্রবারই দিল্লিতে পা রাখবেন হাসিনা।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিংহে, নেপালের পুষ্পকমল দাহাল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে ও মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবিন্দ যুগনাথ।
আরও পড়ুন:
এবার নরেন্দ্র মোদি হ্যাটট্রিক করলেন বটে। কিন্তু এবারের জয় বড্ড ম্যাড়মেড়ে।
কথায় কথায় আর ‘মোদির গ্যারান্টি’ বলে আস্ফালন করতে পারবেন না তিনি। কারণ এবার আর ‘মজবুত’ সরকার নয়। ‘মজবুর’ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন তিনি। মজবুর শব্দটি তিনি বহুবার বিরোধীদের জন্য ব্যবহার করেছেন। তাঁর বুক চাপড়ে কৃতিত্ব নেওয়াকে বিজেপি বরদাশ্ত করলেও চন্দ্রবাবু কিংবা নীতীশ বরদাশ্ত করবেন না।আরও পড়ুন:
মোদির কাছে অত্যন্ত চাপের বিষয় নীতীশ কুমার। ২০১৩-তে যখন মোদিকে প্রধানমন্ত্রী মুখ করা হবে বলে প্রচার শুরু হয়, তখন তা মোটেও ভালোভাবে নেননি নীতীশ। মিডিয়ার সামনেও নিজের উষ্মার কথা জানিয়েছিলেন। বের হয়ে এসেছিলেন এনডিএ জোট থেকে। নরেন্দ্র মোদির ধর্মনিরপেক্ষ বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
সেই নীতীশ ফের বিজেপির সঙ্গে। বহুবার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলেছেন নীতীশ। লোকে তাকে পল্টু কুমার বলেছে। মিম ছড়িয়ে তাঁর নামে। তবে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থেকেছেন নীতীশ। এক ডাল থেকে অন্য ডালে ঝাঁপ দিয়েছেন নিপুণ দক্ষতায়। এবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, মোদির দলের নিয়ন্ত্রণও এখন তাঁর এবং নাইডুর হাতে।আরও পড়ুন:
৯ জুন মোদি শপথ নেবেন বটে, কিন্তু তাতে কি আদৌ সেই উচ্ছ্বাস থাকবে? কেবল হ্যাটট্রিক করে নেহরুর রেকর্ড ছোঁয়া ছাড়া মোদির আলাদা কোনও কৃতিত্ব নেই। বারাণসীতে তিনি যে মার্জিনে জিতেছেন তাতে স্পষ্ট যে, কংগ্রেস যদি সাহস করে কোনও ভালো প্রার্থী দিত, তাহলে মোদির কপালে খারাবি ছিল।
অযোধ্যায় পর্যন্ত হেরেছে মোদির দল। রামমন্দির ইস্যু একেবারেই কাজ করেনি। অনেকে বলছেন, একক কৃতিত্ব নিতে গিয়ে মোদি নিজে এই সর্বনাশটা করেছেন। আরএসএস সেখানে অনেকটাই নির্লিপ্ত হয়ে যায়। রামমন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে ছিলেন সেই আদবানি-যোশি ও উমা ভারতীদের সাইডলাইন করে সব কৃতিত্ব মোদি যেভাবে নিজে নেন, তা সংঘ ও স্থানীয় হিন্দুরা ভালোভাবে নেয়নি। কিন্তু গেরুয়া স্বপ্নে বিভোর শাহ-মোদি কিংবা যোগী তা বুঝে উঠতে পারেনি। মানুষের চোখের দিকে তাকাননি পর্যন্ত তাঁরা। সেখানেই এই বিপর্যয়। তৃতীয় ইনিংসে মোদি কি সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারবেন? বলবে সময়, আর নীতীশ-নাইডু।আরও পড়ুন:
শরিক নির্ভর তৃতীয় মোদি সরকার গঠনের প্রস্তুতির মধ্যেই চলছে মন্ত্রিত্ব নিয়ে দড়ি টানাটানি। তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চললেও, নরেন্দ্র মোদিকে নির্ভর করতে হচ্ছে এনডিএ-এর দুই বড় শরিক টিডিপি ও জেডিইউ'র ওপর।
আরও পড়ুন: