রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ৪৩০টি মডেল স্কুল গড়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায়। মোট ব্যয়ের ৭০ শতাংশ বহন করবে ব্যাঙ্ক এবং বাকি ৩০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, প্রতি ব্লকে একটি করে এবং ৮৭টি অনগ্রসর ব্লকে দুটি করে স্কুলকে চিহ্নিত করে মডেল স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নতুন ভবন নির্মাণ না করে বিদ্যমান স্কুলগুলিকেই উন্নত পরিকাঠামোয় রূপান্তর করা হবে।
মন্ত্রী জানান, এই মডেল স্কুলগুলিতে থাকবে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক গবেষণাগার, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, ক্রীড়ার বিশেষ ব্যবস্থা, উন্নত স্যানিটেশন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের উপরও জোর দেওয়া হবে।
‘স্কুলশিক্ষার সম্প্রসারণ’ নামে এই বৃহৎ প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, শিক্ষাগত ঘাটতি পূরণের জন্য বিশেষ কোর্স এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচিও চালু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শিক্ষার মান আরও উন্নত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
এদিন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও ২,১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে রাজ্যের ৫০ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আধুনিকীকরণ করা হবে। এখানেও ৭০ শতাংশ অর্থ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এবং ৩০ শতাংশ রাজ্য। শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষাসামগ্রী এবং কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
তবে শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য ভোটের সময়ে স্কুল ব্যবহার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়া উচিত নয় এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
রাজ্যের দাবি, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে স্কুলশিক্ষা ও প্রাক্-প্রাথমিক স্তরের পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন দিশা তৈরি হবে।
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
BREAKING :
ব্লকে ব্লকে ৪৩০টি মডেল স্কুল, শিক্ষায় বড় বিনিয়োগ রাজ্যের
-
মোক্তার হোসেন মন্ডল - আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, শুক্রবার
- 17
ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

































