রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল জার্মানির দখলে। প্রথমার্ধে তারা প্রায় ৭৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রাখলেও আক্রমণে সেই আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। চারটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ইউরোপের দলটি।

অন্যদিকে, সুযোগ কম পেয়েও দারুণ কার্যকর ফুটবল খেলেছে প্যারাগুয়ে।

ম্যাচের ৪২ মিনিটে মাতিয়াস গালারজার নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হুলিও এনসিসো। প্রথমার্ধ শেষ হয় প্যারাগুয়ের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে।
বিরতির পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। তারই ফল মেলে ৫৪ মিনিটে। দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ। এরপর দুই দলই কয়েকটি সুযোগ পেলেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।

অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে জোনাথন তাহর হেডে জার্মানি বল জালে জড়ালেও ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে গোলটি বাতিল হয়। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে শুরুতেই ধাক্কা খায় জার্মানি। কাই হাভার্টজের নেওয়া প্রথম শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। এরপর একে একে গোল করেন জশুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও নাদিয়েম আমিরি। তবে নিক ভোল্টেমেডের শটও রুখে দেন গিল।

অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের হয়ে গোল করেন মাউরিসিও মাগালায়েস, গুস্তাভো গোমেস ও মাতিয়াস গালারজা। আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও ফাবিয়ান বালবুয়েনা সুযোগ নষ্ট করলেও শেষ পর্যন্ত হোসে কানালের জোরালো শটে নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের জয়।

জার্মানির ষষ্ঠ শটে জোনাথন তাহ বল বারের অনেক ওপর দিয়ে মেরে বসলে ভাগ্য পুরোপুরি প্যারাগুয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এরপর হোসে কানালে আর কোনো ভুল করেননি। তাঁর সফল শটেই টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় প্যারাগুয়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপে নামলেও শেষ বত্রিশ থেকেই বিদায় নিতে হলো চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে।