পুবের কলম, ওয়েব ডেস্কঃ কোনও না কোনও ইস্যুতে অশান্তি লেগেই রয়েছে মণিপুরে। এবার ধান চাষে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, কুকিরাই নাকি মেইতেইদের চাষে বাধা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইম্ফল পূর্ব এবং কাংপোকপি---এই দুই জেলার সীমান্তের লেইতানপোকপি নামের একটি গ্রামে।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, জমিতে ধান চাষ করতে যাওয়া এক মেইতেই কৃষককে জমিতে চাষ করতে যেতে বাধা দেয় কয়েকজন কুকি গ্রামবাসী। আর তাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ওই কৃষক নিরাপত্তা বাহিনীকে জানান যে, তিনি জমির মালিক এবং রবিবার সকালে তিনি তাঁর ট্রাক্টর নিয়ে ধানক্ষেতে যান।
আরও পড়ুন:
কুকি উপজাতির একদল লোক তখন সেখানে জড়ো হয়ে দাবি করেন গ্রামের ওই জমি তাঁদের।
তাই তাঁরা তাঁকে ওখানে চাষ করতে দেবেন না। আর এক মেইতেই কৃষক জানান, এই জমি তাঁদের। সংঘর্ষের কারণে পাহাড়ের পাদদেশের এই জমিগুলি কিছুদিন তাঁরা চাষ করা থেকে বিরত ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা আগে কিছু দখলদারকে সরিয়ে দিয়েছিলাম।আরও পড়ুন:
তা নিয়ে অশান্তি তৈরি হওয়ায় আমাদের গ্রামের প্রবীণরা তাদের এই জমিগুলিতে চাষের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। আমরা সেটা মেনে নিয়েছিলাম। আর এখন ওরা (কুকি) সেই সুযোগের সদ্বব্যবহার করছে। কুকিরা জমির দখল ছাড়তে চাইছে না। এখন ওরা সেই জমি দখল করেছে কারণ আমরা কিছুদিন ধরে সেখানে যাচ্ছিলাম না।
’আরও পড়ুন:
এদিকে, এনিদের এই বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ফের বিরোধ হয়। চলে পাথরবৃষ্টি। তাতে দু’তরফেরই বেশ কয়েকজন জখম হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও গ্রামবাসীরা বলেছেন যে, জমির মালিকানার কাগজপত্র বা পাট্টা দেখে বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যাবে।
তাই এই নিয়ে অহেতুক উত্তেজনা তৈরি করে লাভ নেই। কাগজপত্রই বলে দেবে জমি কার। পুলিশের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। ‘রবিবার সকাল ১০টার দিকে লেইতানপোকপির একজন মেইতেই কৃষক ট্রাক্টর নিয়ে কুকি গ্রামের কাছে সাদু লাম্পাক গ্রামে ধানক্ষেত চাষ করতে যান।
আরও পড়ুন:
কাছাকাছি থাকা কিছু কুকি গ্রামবাসী এসে আপত্তি জানান যে ধানক্ষেত তার নয়। সেইসময় কয়েকজন মেইতেইও সেখানে ছিলেন। তাঁরাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সমস্যা তৈরি হয়। ইম্ফল পূর্বের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নিরাপত্তা বাহিনী এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, পুলিশের সতর্কতা সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, ‘পুলিশ কুকি গ্রামে ঢুকে মেইতেইদের উপর আক্রমণ করেছে।’ এই ধরনের একাধিক গুজব খবর ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, যারা এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।