০১ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভিতরে বসে মুখ্যমন্ত্রীর বোন, গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ! ঘটনার সাক্ষী থাকল তেলেঙ্গানা রাজ্য

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভিতরে বসে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির বোন, ক্রেন নিয়ে গাড়ি তুলে নিয়ে পুলিশ। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল তেলেঙ্গানা রাজ্য। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কে চন্দ্রশেখর রাও এর বিরুদ্ধে গাড়ির ভিতরে বসেই  বিক্ষোভ  প্রতিবাদ  দেখাচ্ছিলেন ওয়াইএসআরটিপি প্রধান শর্মিলা রেড্ডি। সেই সময় তাকে সমেত গাড়ি তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। গাড়ি নিয়ে তিনি তখন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঠিক সেই সময় কোনও সমাধান সূত্র না পেয়ে শর্মিলা রেড্ডি’র গাড়ি ক্রেন দিয়ে টেনে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সোমবার টিআরএস কর্মী-সমর্থকরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছিল, সেই অভিযোগ তুলে তিনি এদিন অভিনব প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অফিস ও বাসভবন প্রগতি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

আরও পড়ুন: বীরভূমে নির্দল প্রার্থীর স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধার, ঘটনায় চাঞ্চল্য

গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ শর্মিলা রেড্ডিকে গ্রেফতার করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে। পরে তাঁকে স্থানীয় থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। ক্রেন দিয়ে শর্মিলার গাড়িটি টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়োটি ট্যুইটারে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, শর্মিলা গাড়িতে বসে আছে। তার গাড়ির কাঁচ ভাঙা। চারদিকে ঘিরে রয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। সেখানেই তার গাড়ি ক্রেন দিয়ে টানছে পুলিশ। শর্মিলাকে গাড়ি সমেত থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তিনি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।  শেষ পর্যন্ত এসইউভির দরজা খুলতে একজন তালা তালা-চাবি তৈরির কারিগরকে ডেকে আনে পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর মা মিসেস ওয়াই এস বিজয়লক্ষ্মীকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তেলেঙ্গানার রাজনীতি৷

উল্লেখ্য, সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির বোন ওয়াই এস শর্মিলার সমর্থক এবং তেলঙ্গনা রাষ্ট্রীয় সমিতি কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা বেঁধেছিল তেলঙ্গনার ওয়ারঙ্গাল জেলায়। পুলিশ এরপর শর্মিলাকে গ্রেফতার করে। গতকালই কিছু ব্যক্তি ওয়াইএসআরটিপি প্রধান শর্মিলার কনভয়ে থাকা ক্যাম্পেন বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশ তারপর জানায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি জেরে পুলিশ গতকালের প্রজা প্রস্থনম পদযাত্রার অনুমতি সাময়িকভাবে বাতিল করে দেয়। গত ২২৩ দিন ধরে তেলঙ্গনায় পদযাত্রা করছেন শর্মিলা। এখনও পর্যন্ত তিনি সাড়ে ৩,৫০০ কিমি পদযাত্রা করেছেন তেলঙ্গনার ৭৫টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে। শর্মিলার বক্তব্য, তাঁর দলের পদযাত্রা রোজই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, সেটাই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর কেসিআর দলের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই তারা যেকোনও প্রকারে আটকানোর চেষ্টা করছে।

একটি  ট্যুইটে  ওয়াইএস শর্মিলা লিখেছেন, “কেসিআরের কাপুরুষোচিত পদক্ষেপগুলিকে আমি হুমকি বলে মনে করছি না। আপনি যদি মনে করে থাকেন যে, আপনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেন, পুলিশকে আপনার পেয়াদা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন, টিআরএস-এর গুন্ডাদের উস্কানি দিতে পারেন এবং অপরাধ করতে প্রলুব্ধ করতে পারেন, তাহলে আপনাকে বলছি সাবধান। প্রগতি ভবন বা আপনার ফার্ম হাউস, যেখানেই লুকিয়ে থাকুন না কেন, আপনার পতন নিশ্চিত।”

 

 

সর্বধিক পাঠিত

মেঘালয়ে সন্দেহজনক সংক্রমণে দুই অগ্নিবীর প্রশিক্ষণার্থীর মৃত্যু, সতর্কতা জারি

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভিতরে বসে মুখ্যমন্ত্রীর বোন, গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ! ঘটনার সাক্ষী থাকল তেলেঙ্গানা রাজ্য

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, বুধবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভিতরে বসে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির বোন, ক্রেন নিয়ে গাড়ি তুলে নিয়ে পুলিশ। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল তেলেঙ্গানা রাজ্য। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কে চন্দ্রশেখর রাও এর বিরুদ্ধে গাড়ির ভিতরে বসেই  বিক্ষোভ  প্রতিবাদ  দেখাচ্ছিলেন ওয়াইএসআরটিপি প্রধান শর্মিলা রেড্ডি। সেই সময় তাকে সমেত গাড়ি তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। গাড়ি নিয়ে তিনি তখন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঠিক সেই সময় কোনও সমাধান সূত্র না পেয়ে শর্মিলা রেড্ডি’র গাড়ি ক্রেন দিয়ে টেনে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। সোমবার টিআরএস কর্মী-সমর্থকরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছিল, সেই অভিযোগ তুলে তিনি এদিন অভিনব প্রতিবাদের ভাষা বেছে নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অফিস ও বাসভবন প্রগতি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।

আরও পড়ুন: বীরভূমে নির্দল প্রার্থীর স্বামীর মৃতদেহ উদ্ধার, ঘটনায় চাঞ্চল্য

গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ শর্মিলা রেড্ডিকে গ্রেফতার করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে। পরে তাঁকে স্থানীয় থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। ক্রেন দিয়ে শর্মিলার গাড়িটি টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিয়োটি ট্যুইটারে ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, শর্মিলা গাড়িতে বসে আছে। তার গাড়ির কাঁচ ভাঙা। চারদিকে ঘিরে রয়েছেন দলের কর্মী-সমর্থকরা। সেখানেই তার গাড়ি ক্রেন দিয়ে টানছে পুলিশ। শর্মিলাকে গাড়ি সমেত থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তিনি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকার করেন বলে পুলিশের দাবি।  শেষ পর্যন্ত এসইউভির দরজা খুলতে একজন তালা তালা-চাবি তৈরির কারিগরকে ডেকে আনে পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, তাঁর মা মিসেস ওয়াই এস বিজয়লক্ষ্মীকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তেলেঙ্গানার রাজনীতি৷

উল্লেখ্য, সোমবার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডির বোন ওয়াই এস শর্মিলার সমর্থক এবং তেলঙ্গনা রাষ্ট্রীয় সমিতি কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা বেঁধেছিল তেলঙ্গনার ওয়ারঙ্গাল জেলায়। পুলিশ এরপর শর্মিলাকে গ্রেফতার করে। গতকালই কিছু ব্যক্তি ওয়াইএসআরটিপি প্রধান শর্মিলার কনভয়ে থাকা ক্যাম্পেন বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। পুলিশ তারপর জানায় যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।  রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি জেরে পুলিশ গতকালের প্রজা প্রস্থনম পদযাত্রার অনুমতি সাময়িকভাবে বাতিল করে দেয়। গত ২২৩ দিন ধরে তেলঙ্গনায় পদযাত্রা করছেন শর্মিলা। এখনও পর্যন্ত তিনি সাড়ে ৩,৫০০ কিমি পদযাত্রা করেছেন তেলঙ্গনার ৭৫টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে। শর্মিলার বক্তব্য, তাঁর দলের পদযাত্রা রোজই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, সেটাই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর কেসিআর দলের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই তারা যেকোনও প্রকারে আটকানোর চেষ্টা করছে।

একটি  ট্যুইটে  ওয়াইএস শর্মিলা লিখেছেন, “কেসিআরের কাপুরুষোচিত পদক্ষেপগুলিকে আমি হুমকি বলে মনে করছি না। আপনি যদি মনে করে থাকেন যে, আপনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারেন, পুলিশকে আপনার পেয়াদা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন, টিআরএস-এর গুন্ডাদের উস্কানি দিতে পারেন এবং অপরাধ করতে প্রলুব্ধ করতে পারেন, তাহলে আপনাকে বলছি সাবধান। প্রগতি ভবন বা আপনার ফার্ম হাউস, যেখানেই লুকিয়ে থাকুন না কেন, আপনার পতন নিশ্চিত।”