০২ মার্চ ২০২৬, সোমবার, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে চমক: উজ্জ্বল নিকম, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, সদানন্দন মাস্টার ও মীনাক্ষী জৈন মনোনীত

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: রবিবার সকালেই রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে ঘোষিত হল রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত চার সদস্যের নাম। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এই চার মনোনয়নে যেমন চমক রয়েছে, তেমনই রয়েছে সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিত্ব করার স্পষ্ট বার্তা। মনোনীত হয়েছেন—বিশিষ্ট আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম, প্রাক্তন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, কেরলের সমাজকর্মী সি. সদানন্দন মাস্টার, এবং ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈন।

বিখ্যাত ফৌজদারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলা মামলায় প্রধান সরকারি আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একমাত্র জীবিত জঙ্গি অজমল কসাব-এর বিরুদ্ধে কঠিন সাক্ষ্য ও প্রমাণ পেশ করে কসাবকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। ২০১২ সালে কসাবের ফাঁসি কার্যকর হয়।

নিকম ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণ, গায়ক গুলশন কুমার হত্যা এবং প্রমোদ মহাজন হত্যার মতো উচ্চপ্রোফাইল মামলাগুলিতেও কাজ করেছেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে মুম্বই উত্তর-মধ্য কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েও কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হন তিনি। এই মনোনয়নকে অনেকেই তাঁর আইনগত অবদানের স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন।

আরও পড়ুন: রাজ্যসভা ভোট ১৬ মার্চ

দীর্ঘ কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-সমৃদ্ধ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবার সাংসদ রূপে রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন। ২০২4 লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে দার্জিলিং কেন্দ্রে প্রার্থী করার সম্ভাবনা ছিল। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সেখানে সক্রিয়ভাবে কাজও করেন, তবে শেষ পর্যন্ত রাজু বিস্তা-কে পুনরায় প্রার্থী করে বিজেপি।

আরও পড়ুন: রাজ্যসভাতেও পাশ অনলাইন গেমিং বিল, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর কার্যকর আইন

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রিংলার দক্ষ প্রশাসনিক কাজ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে বিদেশ মন্ত্রকের বিভিন্ন সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ে প্রার্থী না করতে পারার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই তাঁকে সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন: পহেলগাম হামলায় নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জয়া বচ্চনের

কেরলের ত্রিশূর জেলার প্রখ্যাত শিক্ষক এবং সমাজকর্মী সি. সদানন্দন মাস্টার-কে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছে। তিনি কেরল বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ। ১৯৯৪ সালে এক রাজনৈতিক হামলায় দু’টি পা হারানোর পরও তিনি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন নিরন্তর।

ভারতের সংবিধানের ৮০(১)(ক) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভায় ১২ জন সদস্য মনোনীত করতে পারেন। সেই অধীনে সদানন্দন মাস্টারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর সংগ্রামী জীবন ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই মনোনয়ন দেওয়া হলেও, আসন্ন কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে মাথায় রেখেই রাজনৈতিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কেরলে একটি আসনে জয় পায় বিজেপি।

তালিকার শেষ নাম ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈন, যিনি মধ্যযুগ ও ঔপনিবেশিক ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে গবেষণায় বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি দিল্লির গার্গী কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন এবং নেহরু মেমোরিয়াল মিউজ়িয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ (ICSSR)-এর সিনিয়র ফেলো।

অযোধ্যা ও রামমন্দির সংক্রান্ত ইতিহাস এবং গবেষণামূলক কাজের জন্য তিনি ২০২০ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর মনোনয়নকেও কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ‘নেতৃত্বে বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিজীবী’ তুলে ধরার পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

সর্বধিক পাঠিত

দিনহাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে চমক: উজ্জ্বল নিকম, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, সদানন্দন মাস্টার ও মীনাক্ষী জৈন মনোনীত

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৫, রবিবার

পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: রবিবার সকালেই রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে ঘোষিত হল রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত চার সদস্যের নাম। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু দেশের চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য হিসেবে নিয়োগ করেছেন। এই চার মনোনয়নে যেমন চমক রয়েছে, তেমনই রয়েছে সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিত্ব করার স্পষ্ট বার্তা। মনোনীত হয়েছেন—বিশিষ্ট আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম, প্রাক্তন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, কেরলের সমাজকর্মী সি. সদানন্দন মাস্টার, এবং ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈন।

বিখ্যাত ফৌজদারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলা মামলায় প্রধান সরকারি আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একমাত্র জীবিত জঙ্গি অজমল কসাব-এর বিরুদ্ধে কঠিন সাক্ষ্য ও প্রমাণ পেশ করে কসাবকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য। ২০১২ সালে কসাবের ফাঁসি কার্যকর হয়।

নিকম ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণ, গায়ক গুলশন কুমার হত্যা এবং প্রমোদ মহাজন হত্যার মতো উচ্চপ্রোফাইল মামলাগুলিতেও কাজ করেছেন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে মুম্বই উত্তর-মধ্য কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েও কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হন তিনি। এই মনোনয়নকে অনেকেই তাঁর আইনগত অবদানের স্বীকৃতি বলেই মনে করছেন।

আরও পড়ুন: রাজ্যসভা ভোট ১৬ মার্চ

দীর্ঘ কূটনৈতিক এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-সমৃদ্ধ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবার সাংসদ রূপে রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন। ২০২4 লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে দার্জিলিং কেন্দ্রে প্রার্থী করার সম্ভাবনা ছিল। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সেখানে সক্রিয়ভাবে কাজও করেন, তবে শেষ পর্যন্ত রাজু বিস্তা-কে পুনরায় প্রার্থী করে বিজেপি।

আরও পড়ুন: রাজ্যসভাতেও পাশ অনলাইন গেমিং বিল, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর কার্যকর আইন

বিশ্লেষকদের মতে, শ্রিংলার দক্ষ প্রশাসনিক কাজ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমলে বিদেশ মন্ত্রকের বিভিন্ন সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ে প্রার্থী না করতে পারার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই তাঁকে সংসদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন: পহেলগাম হামলায় নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জয়া বচ্চনের

কেরলের ত্রিশূর জেলার প্রখ্যাত শিক্ষক এবং সমাজকর্মী সি. সদানন্দন মাস্টার-কে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছে। তিনি কেরল বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ। ১৯৯৪ সালে এক রাজনৈতিক হামলায় দু’টি পা হারানোর পরও তিনি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে কাজ করে গিয়েছেন নিরন্তর।

ভারতের সংবিধানের ৮০(১)(ক) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাজ্যসভায় ১২ জন সদস্য মনোনীত করতে পারেন। সেই অধীনে সদানন্দন মাস্টারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর সংগ্রামী জীবন ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই মনোনয়ন দেওয়া হলেও, আসন্ন কেরল বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে মাথায় রেখেই রাজনৈতিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে কেরলে একটি আসনে জয় পায় বিজেপি।

তালিকার শেষ নাম ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈন, যিনি মধ্যযুগ ও ঔপনিবেশিক ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ইতিহাস নিয়ে গবেষণায় বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি দিল্লির গার্গী কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন এবং নেহরু মেমোরিয়াল মিউজ়িয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরির ফেলো হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ (ICSSR)-এর সিনিয়র ফেলো।

অযোধ্যা ও রামমন্দির সংক্রান্ত ইতিহাস এবং গবেষণামূলক কাজের জন্য তিনি ২০২০ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর মনোনয়নকেও কেন্দ্রীয় সরকারের একটি ‘নেতৃত্বে বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিজীবী’ তুলে ধরার পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।