পুবের কলম প্রতিবেদক, আহমেদাবাদ: দেশের যে কোন প্রান্তে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভা ঘিরেই থাকে দেশবাসীর চুড়ান্ত আগ্রহ। সভামঞ্চ থেকে দেশবাসীর প্রতি কোন বার্তা দেন, মূলত সে দিকেই নজর থাকে সভায় আগত দর্শকদের।তা বলে আদিবাসী উন্নয়ন তহবিলের টাকায় চা-সিঙাড়া সহযোগে ভিআইপিদের উদরপূর্তির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। জানা গিয়েছে, গত ১৫ নভেম্বর ঘটনাটি ঘটেছে খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজ্য গুজরাতের নর্মদা জেলায়। গত ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর গুজরাতের নর্মদা জেলায় বীরসা মুন্ডার জন্মসার্ধশর্তবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ প্রধান মন্ত্রী।

আর ওই সভা উপলক্ষে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন তহবিলের মোট ৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে বিজেপিশাসিত গুজরাত সরকার। ওই সভায় ভিআইপি অতিথিদের চা-শিঙাড়া দিয়ে মেহমানদারিতেই ব্যয় হয়েছে ২ কোটি টাকা! তথ্য জানার অধিকার আইন তথা আরটিআই-এ আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তথ্য সামনে এসেছে আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দৌলতে। এব্যাপারে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘আদিবাসীদের উন্নয়নের অর্থে এই ২ কোটি টাকার শিঙাড়া কারা খেল? ওই টাকায় আদিবাসী এলাকায় বহু স্কুল-হাসপাতাল তৈরি করা যেত!
’’

উল্লেখ্য, সোমবার ভদোদরায় এক জনসভায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘মোদীর সভার প্যান্ডেল-প্যাভিলিয়ন, মূল মঞ্চের ছাউনি, মঞ্চ তৈরির খরচ, অস্থায়ী শৌচাগার, এমনকি সভাস্থলে লোক আনতে বাসের পিছনে কোটি কোটি টাকা জলের মতো খরচ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে এই বিপুল খরচ তো ভালো ব্যাপার। চৈতারের আরটিআইয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ২ কোটি টাকার শিঙাড়া কেনার বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী শিঙাড়ার পিছনে ২০ কোটি বা ৩০ কোটি টাকা খরচ করতেই পারেন। তবে সেই টাকা কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে আসবে না কেন?’’ বিজেপি শাসিত গুজরাতের সার্বিক বিকাশ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়করাও নাখোস বলেও মন্তব্য করেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল।