পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ‘বড় হুযুর পাক’ - নামে খ্যাত মহান সুফি সাধক হযরত সৈয়দ শাহ রশীদ আলী আল-কাদেরী আল-হাসানী আল-হুসায়নী আল-বাগদাদী পাকের দ্বিতীয় বার্ষিক উরস শরীফ ৩০ শ্রাবণ, বুধবার পালিত হল মেদিনীপুর শহরের জোড়া মসজিদ, তৎ-সংলগ্ন মাযার শরীফ ও দায়রা পাকে।

তিনি কাদেরিয়া তরিকার প্রতিষ্ঠাতা ‘বড় পীর সাহেব’ হযরত আব্দুল কাদির জিলানী-র ২২ তম বংশধর। দুই বছর পূর্বে - ১৬ই আগস্ট ২০২১, বাংলা ৩০শে শ্রাবণ ১৪২৮(৬ই মুহাররম) তাঁর ‘বেসালে হক’ হয়েছিল তাঁর বাসস্থান কলকাতার ৪ নং হাজী মুহাম্মদ মহসিন স্কোয়ার দরবার শরীফে। তাঁর মাযার শরীফ নির্মিত হয়েছে মেদিনীপুরে জোড়া মসজিদে তাঁদের পারিবারিক মাযার শরীফ প্রাঙ্গণে।

`বড় হুযুর পাকের’ ভক্ত ও শিষ্য সারা বিশ্বেই রয়েছেন। তাঁর প্রপিতামহ ‘মওলা পাকের’ ৪ ই ফাল্গুনের উরস পাকে যেমন প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য পুণ্যার্থী মেদিনীপুরে আসেন, এমনকী স্পেশ্যাল ট্রেন এবং রিজার্ভ বাসও আসে, তেমনই এই উরস পাকেও বাংলাদেশ থেকে অনেক পুণ্যার্থী এসেছেন। পশিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলা থেকে রিজার্ভ বাস, ট্রেন ও বিভিন্ন উপায়ে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের ঢল নামে এই উরস পাকে।

`বড় হুযুর পাকের’ - বর্তমান স্থলাভিষিক্ত উত্তরাধিকারী সাজ্জাদানশীন হুযুর পাক হযরত সৈয়দ শাহ ইয়াসুব আলী আল-কাদেরী আল-বাগদাদী-র পরিচালনায় এই উরস পাক মেদিনীপুর ছাড়াও বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে, বিহারের পূর্ণিয়া জেলার হযরত রওশনগঞ্জ শরীফে এবং ভারত ও বাংলাদেশের সমস্ত কাদেরিয়া খানকাহ শরীফ ও মসজিদ পাকে পালিত হল।

`বড় হুযুর পাক’ এর দরবারে উচ্চ-নীচ, গরীব-বড়লোক কোন ভেদাভেদ ছিলনা। যমানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম হয়েও তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতে ভালোবাসতেন। দুনিয়ায় থেকেও তিনি দুনিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন। তিনি কঠোর আত্মসংযম ও কৃচ্ছসাধনার মধ্যে দিয়ে সারা জীবন অতিবাহিত করেন।