পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভোটের আবহে প্রশাসনে রদবদলের ঝড় অব্যাহত। এবার একঝাঁক জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে সরানোর নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। বুধবার জারি হওয়া নির্দেশিকায় এই ব্যাপক রদবদলের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে একই দিনে পাঁচজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়েছিল।
তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও বড় পদক্ষেপ করে ১১টি জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার—এই জেলাগুলিতে নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে কোচবিহারে জিতেন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদহে রাজনবীর সিংহ কপূর, মুর্শিদাবাদে আর অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পাল্লি, পূর্ব বর্ধমানে স্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্পা গৌরিসারিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি, দার্জিলিঙে হরিচন্দ্র পানিকর এবং আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যম দায়িত্ব নিচ্ছেন। শুধু জেলা স্তরেই নয়, কলকাতাতেও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। উত্তর কলকাতার নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তের পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্মিতা পাণ্ডেকে। দক্ষিণ কলকাতার নতুন নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রণধীর কুমার।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। যাঁদের সরানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কোনও ভোট-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত করা যাবে না। উল্লেখ্য, ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রশাসনিক রদবদল চলছে। এর আগে রাজ্য পুলিশের প্রধান, কলকাতার পুলিশ প্রধান, একাধিক পুলিশ সুপার ও অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদেরও সরানো হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এত দ্রুত এবং বিস্তৃত আকারে প্রশাসনিক পরিবর্তন খুব একটা দেখা যায় না, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।