পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ পুতিনের অনুগত চেচেন সৈন্যরা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় পোপাসনা শহরের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। চেচনিয়া রাশিয়ার অধীন একটি প্রজাতন্ত্র। মুসলিম অধ্যুষিত এই প্রজাতন্ত্র থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে শত শত সেনা পুতিনের পক্ষে লড়ছে। তবে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলের শহরটিতে এখন ব্যাপক যুদ্ধ চলছে। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব দিকের বেশিরভাগ অংশে অভিযান শুরু করে। সম্প্রতি লুহানস্ক অঞ্চলের পোপাসনার আশেপাশে সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ বলেছেন, চেচেন স্পেশাল ফোর্সের যোদ্ধারা পোপাসনার বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কাদিরভ প্রায়ই নিজেকে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট পুতিনের অনুগত সৈনিক হিসাবে বর্ণনা করেন। একটি পোস্টে লিখেছেন, তার সেনারা শহরটির প্রধান রাস্তা এবং কেন্দ্রীয় জেলাগুলো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এদিকে, মারিওপল শহরের আজভস্টল স্টিল কারখানা রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে লড়ছে ইউক্রেনীয় সেনা। অস্ত্র ও অস্ত্র-সরঞ্জাম কম থাকায় রুশ বাহিনীর সাথে পেরে উঠছে না তারা। রাশিয়ান বাহিনী মারিওপল শহরের শেষ প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে।
আজভস্তলের পাশাপাশি ইউক্রেনের খারকিভে নতুন করে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার দাবি, এসব হামলায় ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রুশ সামরিক মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলছেন, ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বে খারকিভ শহরের দুটি পৃথক ট্রেন স্টেশনে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্ত্র, সামরিক যান এবং সামরিক কর্মী। রাশিয়ার দাবি, কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত স্নেক দ্বীপের চারপাশে অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি এস-২৪ ও একটি এস-২৭ যুদ্ধবিমান এবং তিনটি এমআই-৮ হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। খারকিভের পর ইউক্রেনের লুহানস্কেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
পশ্চিমা মিডিয়ায় খবর, লুহানস্কের একটি স্কুলে রাশিয়ার বিমান হামলায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত ৯০। স্থানীয় সময় শনিবার ওই স্কুলে বিমান হামলা চালানো হয়। স্কুলটিতে সাধারণ ইউক্রেনীয়রা আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। লুহানস্কের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি হাইদাই জানিয়েছেন, ওই স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ৩০ অসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন আহত হয়েছেন।