বিশেষ প্রতিবেদন: বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলি গৃহযুদ্ধ, জাতিগত এবং সাম্প্রদায়িক সংঘাতের শিকার। কোভিড-১৯, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ তাদের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে। সমগ্র মানব জাতি যাতে একটি ভালো ও পরিমিত জীবনযাত্রা উপভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বের যথেষ্ট সম্পদ এবং সংস্থান রয়েছে। তবুও বুরুন্ডি, দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রান আফ্রিকান রিপাবলিকের মতো দেশগুলি প্রচণ্ড দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশের এই অবাঞ্ছিত শিরোনামের জন্য প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নামও উঠে আসে। তবে দেশগুলিতে বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাতের ফলে নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে, স্বভাবতই দেশগুলিতে সঠিক মূল্যায়নের চেষ্টা করা অসম্ভব। তাহলে কীভাবে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলিকে নির্ধারণ করব? মাথাপিছু জিডিপিকে প্রায়শই স্ট্যান্ডার্ড মেট্রিক হিসাবে বিবেচনা করা হলেও, ক্রয়ক্ষমতা সমতা বা ‘পিপিপি’ (পার্চেসিং পাওয়ার প্যারিটি) ব্যবহার করে যেকোনও দেশের ব্যক্তির ক্রয় ক্ষমতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির হারের পার্থক্য আরও ভালো ভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্র্যের একক কারণ চিহ্নিত করা কঠিন। দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার একটি ধনী জাতিকে দরিদ্রে পরিণত করতে পারে। কোনও দেশের শোষণমূলক ঔপনিবেশিক ইতিহাস, আইনের দুর্বল শাসন, যুদ্ধ, সামাজিক অস্থিরতা, তীব্র জলবায়ু পরিস্থিতি ও আগ্রাসী প্রতিবেশীর ইতিহাসও একটি জাতিকে দরিদ্র করে দিতে সক্ষম।
আরও পড়ুন:
বিশ্বব্যাপী সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলি করোনভাইরাস মহামারির সবচেয়ে গুরুতর সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করেছে। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলিতে ব্যাপক সংখ্যায় অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান থাকায় দেশগুলিতে ব্যবসা খোলা রাখার জন্য এবং শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা জাল বা অস্থায়ী ঋণ ছিল না। বিশ্বব্যাঙ্ক পূর্বাভাস দিয়েছে যে, নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে, বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যতের গড় বার্ষিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে।
আরও পড়ুন:
কোভিড-১৯-এর আগে, বিশ্ব জনসংখ্যার মধ্যে কিছু মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করেও দৈনিক ১.৯০ ডলারের কম আয় করত। এই উপার্জনের হার ১৯৯০ সালে ৩৫ শতাংশেরও বেশি মানুষের ছিল যা কোভিডের আগে ১০ শতাংশে নেমে আসে। কোভিড মহামারি সেই অগ্রগতিকে থামানোর পাশাপাশি পুরোপুরি উলটে দিয়েছে। ২০২২ সালে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৯ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তির তালিকায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।
আরও পড়ুন:
এরপর ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী খাবারের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। আইএমএফ-এর ‘গ্লোবাল ফুড ক্রাইসিস আপডেট’ নামক রিপোর্ট জানায়, ‘কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ খাদ্য ও সারের বর্তমান এবং প্রত্যাশিত সরবরাহকে হ্রাস করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়, যা বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ খাদ্যের দামকে অনেক বাড়িয়ে তোলে।
’ আএমএফ বলেছে, ‘এই প্রভাবগুলি বিভিন্ন ভঙ্গুর ও সংঘাত-আক্রান্ত রাজ্যের দ্বন্দ্ব এবং বিধ্বংসী জলবায়ু-সম্পর্কিত ঘটনাগুলির ক্রমাগত প্রভাব দ্বারা আরও জটিল হয়েছে।’ ২০২৩ সালে দামের চাপ কম হওয়া সত্ত্বেও, ৭৯টি দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ২০২০ সালের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।আরও পড়ুন:
খাদ্য নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য হ্রাস লাভের এই পরিবর্তনগুলি বিশ্বের শীর্ষ দশটি দরিদ্রতম দেশে দৃশ্যমান, যার সবকটিই আফ্রিকায়। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলিতে গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ব্যক্তিগত অংশ মাত্র ১,৩৮০ ডলার। বিপরীতে, বিশ্বের ধনী দেশগুলিতে এই সংখ্যা প্রায় ১০৫,০০০ ডলার। তালিকায় থাকা তিনটি দেশই হল আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের যেখানে লাগাতার দুর্ভিক্ষ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটকে ত্বরান্বিত করেছে। তালিকায় আফ্রিকার পাঁচটি এমনও দেশ রয়েছে যেগুলি চারদিক থেকেই স্থলবেষ্টিত। আর তাই এই দেশগুলি সমুদ্রপথে তেমন বাণিজ্য করতে পারে না। আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলির প্রত্যেকটিই রাজনৈতিক স্থিরতার অভাবে ভুগছে, প্রত্যেক দেশেই বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে এভং জাতিগত-ধর্মীয় দাঙ্গার জেরে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এই দেশগুলি বিশ্বের নিরাপদ দেশের তালিকাতেও একদম নিচের দিকে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
১০. লাইবেরিয়া
আফ্রিকার প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রটি বহু বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। ২০১৮ সালে প্রাক্তন ফুটবল তারকা জর্জ ওয়েহ যখন প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তখন মানুষের মনে প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল৷ তবে তাঁর অফিসের প্রথম বছরগুলি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং নেতিবাচক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ মহামারির কারণে ২০২০ সালে ৩% সংকুচিত হওয়ার পরে, জিডিপি ২০২১ সালে ৫% এবং ২০২২ সালে ৪.৮% পুনরুদ্ধার করা হয়। জর্জ ওয়েহ অক্টোবরে পুনরায় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
আরও পড়ুন:
৯. চাদ
চাদে আফ্রিকার দশম বৃহত্তম তেলের মজুদ থাকলেও দেশটিতে দারিদ্র্য ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে যা চাদকে বিশ্বের নবম দরিদ্রতম দেশ করে তুলেছে। ২০০৩ সালে তেলের খনির সন্ধান মেলার পর তা থেকে উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগ অংশই দেশটির স্বৈরাচারী শাসক ইদ্রিস ডেবি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করতে এবং যেকোনও ধরনের ভিন্নমতকে দমন করতে ব্যয় করেন। ২০২১ সালে ডেবি নিহত হলে, তার ছেলে ইদ্রিসের নেতৃত্বে একটি সামরিক কাউন্সিল দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পরপরই সংবিধান স্থগিত করা হয়, সরকার ও সংসদ উভয়ই ভেঙে যায়। ইদ্রিস আজও ‘অন্তর্বর্তীকালীন’ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রয়ে গেছেন।
আরও পড়ুন:
৮.মালাউই
আফ্রিকার ক্ষুদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি হল মালাউই। দেশটির অর্থনীতি অনেকাংশে বৃষ্টি নির্ভর ফসলের উপর নির্ভরশীল হলেও আবহাওয়া-সম্পর্কিত ধাক্কাগুলির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।
দেশটির গ্রামাঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা অত্যন্ত বেশি। ১৯৬৪ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে মালাউই স্থিতিশীল সরকারগুলি উপভোগ করেছে৷ কিন্তু ২০২০ সালে, দেশটির সাংবিধানিক আদালত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পিটার মুথারিকার পুনঃনির্বাচনের জয়কে বাতিল করে দেয়৷ ধর্মতাত্ত্বিক এবং রাজনীতিবিদ লাজারাস চাকভেরা তার জায়গায় শপথ নেন, এবং আজ দেশটির কাঠামোগত পরিবর্তনগুলির বাস্তবায়ন ধীরগতিতে হচ্ছে। দেশটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২২ সালে ০.৮% এ নেমে আসে।আরও পড়ুন:

৭.নাইজার
আরও পড়ুন:
নাইজারের ৮০ শতাংশ স্থলবেষ্টিত অঞ্চলই সাহারা মরুভূমি দ্বারা আচ্ছাদিত এবং দেশটির দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকা জনসংখ্যা ক্ষুদ্র কৃষির উপর নির্ভরশীল। দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি রোগ ও মৃত্যুর হারও বেশি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস-এর সহযোগী বোকো হারামের সঙ্গে চাদের সেনার সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ২০২১ সালে নাইজার তার প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টকে বেছে নেয়। প্রাক্তন শিক্ষক এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহম্মদ বাজুম ক্ষমতায় আসার পর দেশটি এখন মহাদেশে একটি উজ্জ্বল স্থান হিসাবে বিবেচিত, দেশটির অর্থনীতি গত বছর ১১ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির তালিকায় সপ্তমে রয়েছে নাইজার।
আরও পড়ুন:

৬. মোজাম্বিক
আরও পড়ুন:
সম্পদে সমৃদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অবস্থিত এই প্রাক্তন পর্তুগিজ উপনিবেশটি গত এক দশকে প্রায়ই গড় জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি পোস্ট করেছে। তবুও এটি বিশ্বের দশটি দরিদ্রতম দেশের মধ্যে রয়ে গেছে। ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর হামলা দেশটির গ্যাস সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলকে অশান্ত করেছে। তবুও, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, মোজাম্বিকের জন্য মধ্যমেয়াদী অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক, চলতি বছর ৫% এবং পরবর্তী বছর দেশটির ৫% বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
আরও পড়ুন:

৫.কঙ্গো
আরও পড়ুন:
১৯৬০ সালে বেলজিয়ামের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কয়েক দশক ধরে একনায়কত্ব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং ক্রমাগত সহিংসতার শিকার হয়েছে কঙ্গো। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির তালিকায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে৷ দেশের ৯ কোটি ৭০ লক্ষ জনসংখ্যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দৈনিক দুই ডলারেরও কম খরচ করে। তবুও বিশ্বব্যাঙ্ক বলছে, আফ্রিকার অন্যতম ধনী দেশ হওয়ার জন্য কঙ্গোর সম্পদ এবং সম্ভাবনা উভয়ই রয়েছে। দেশটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের বৃহত্তম কোবাল্ট উৎপাদনকারী এবং আফ্রিকার তামার প্রধান উৎস।
আরও পড়ুন:
৪. সোমালিয়া
হর্ন অফ আফ্রিকার ১ কোটি ৭০ লক্ষ জনসংখ্যার দেশ সোমালিয়া। ২০২০ সালের করোনা মহামারি, বন্যা ও পঙ্গপালের অভূতপূর্ব আক্রমণ ও পরবর্তীতে ইউক্রেনের গম রফতানিতে রাশিয়ার অবরোধ সোমালিয়ার স্বাস্থ্য সুবিধাগুলিকে মারাত্মক সংকটে ফেলেছে। এখন চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা দেখা দিয়েছে দেশটিতে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলি সতর্ক করে বলেছে, সোমালিয়ার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন।আরও পড়ুন:

৩. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
আরও পড়ুন:
স্বর্ণ, তেল, ইউরেনিয়াম এবং হীরা সমৃদ্ধ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র একটি অত্যন্ত ধনী দেশ। খনিজ সমৃদ্ধ দেশ হলেও দেশটিতে বসবাসকারী অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত দরিদ্র। এক দশক ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলির তালিকায় রয়েছে দেশটি। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে দৈনন্দিন সামগ্রীর ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি, তীব্র বন্যা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার নিয়মিত চক্র দেশটিতে শুধু বেদনা নিয়ে এসেছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের অফিস (ওসিএইচএ)-এর অনুমান, প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ (দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক) তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন।
আরও পড়ুন:

২. বুরুন্ডি
আরও পড়ুন:
স্থলবেষ্টিত বুরুন্ডিতে প্রাকৃতিক সম্পদের অভাব রয়েছে। দেশটি ১২ বছরের গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। তাই বিশ্বের দ্বিতীয় দরিদ্রতম দেশের তালিকায় রয়েছে বুরুন্ডির নাম। বুরুন্ডির ১ কেটি ৩০ লক্ষ লক্ষ নাগরিকের প্রায় ৪০% জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষির উপর নির্ভর করে। দেশটিতে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলির চেয়ে অনেক বেশি। বুরুন্ডিতে পানির সংকট অত্যন্ত বেশি এবং দেশটির জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও কম বিদ্যুত ব্যবহার করে থাকেন। প্রেসিডেন্ট এভারিস্তে এনদাইশিমিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক মেরামতের একটি প্রচেষ্টা করছেন। গত বছর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই বুরুন্ডির ওপর থেকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ও পুনরায় সহায়তা পাঠাতে শুরু করে। দুর্ভাগ্যবশত, দেশটির প্রবৃদ্ধি মন্থর এবং চলতি বছর দেশটির মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৬% হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
১.দক্ষিণ সুদান
বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ দক্ষিণ সুদান। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর থেকেই সহিংসতায় বিপর্যস্ত দেশটি। তেলের ভান্ডারে সমৃদ্ধ হলেও ১ কোটি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার স্থলবেষ্টিত দেশটি বরাবরই রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিভাজন, অসমতা, দুর্নীতি এবং যুদ্ধ দ্বারা প্রভাবিত। জনসংখ্যার বেশিরভাগই ঐতিহ্যগত কৃষিতে নিযুক্ত, যদিও সহিংসতা এবং চরম জলবায়ু প্রায়ই কৃষকদের চাষবাসে বাধা দেয়। ২০২৩ সালের জন্য প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.৮% হতে পারে, তবে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বের সর্বোচ্চ যা প্রায় ২৭%। ইউনিসেফের অনুমান, জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় ৭৮ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হতে পারে।