পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: : মৃত্যুর মুখ থেকে এক প্রৌঢ়কে জীবন দিলেন চিকিৎসকেরা। ৫৪ বছরের এক ব্যক্তির হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস ভেদ করে লোহার রড ঢুকে এফোঁড়-ওফোঁড় গিয়েছিল। সেই অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। সাংঘাতিক এই অবস্থা দেখে চিকিৎসকেরা শিউড়ে ওঠেন। জটিল অস্ত্রোপচার হয় লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে (কেজিএমইউ)। হার্টের স্পন্দন অব্যাহত রেখেই

হার্ট-ফুসফুসের বাইপাস মেশিন ব্যবহার করে ওপেন হার্ট সার্জারির পরিবর্তে, বিশেষজ্ঞরা পুরো অপারেশন করেছিলেন।

কেজিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এশিয়ার মধ্যে এই ধরনের অস্ত্রোপচার এই প্রথম। এই অস্ত্রোপচার জাপানেও হয়েছিল, কিন্তু সেখানে হৃদযন্ত্রের স্পন্দনকে থামিয়ে অপারেশটি করা হয়েছিল।

জানা গেছে, মুন্নেলাল শর্মা একজন ই-রিক্সা চালক। গত ২২ মার্চ শৌচাগার পরিষ্কার করার সময় ছাদটি ভেঙে পড়ে। সেই সময় ১০ ফুট উঁচু ছাদ থেকে পড়ে যান মুন্নেলাল। একটি লোহার রড তার হার্ট ও ফুসফুসে ঢুকে যায়।

এই অবস্থায় তার গ্রাম দুর্গাপুর থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুলতানপুরে আসেন তিনি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কেজিএমইউ স্থানান্তরিত করা হয়। ডা.বৈভব জয়সোয়াল ও ডা. যদুবেন্দ্র ধীর জানান, রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তরের সময় নেই। পরিবার বাইপাস মেশিনের খরচ বহন করতে পারবে না। প্রায় ৩ লক্ষ টাকা খরচ হবে। যা সময়সাধ্য।
রোগীর হাতে অত সময় নেই। হার্ট-ফুসফুসের মেশিনের উপর নির্ভর করেই এই অস্ত্রোপচার করতে হবে।

মোট ৭৫ সেন্টিমিটার একটি রডটি মধ্যে মুন্নেলালের শরীরের ভিতরে ৪৫ সেন্টিমিটার ঢুকে যায়। চার ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে মুন্নেলালকে জীবন দেন চিকিৎসকেরা। রডটি বের করেন তারা। তিনদিন ভেন্টিলেটর, ৯ দিন আইসিইউতে রাখা হয়। আপাতত বিপদমুক্ত মুন্নেলাল। শীঘ্রই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে।