পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে বলে দাবি করলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার কেরলের কোচিতে আয়োজিত দলের ‘যন্তর মন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগেরও দাবি তুলেছেন তিনি।
দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় শনিবার এই সভার আয়োজন করেছিল সিজেপি।
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশের সময় দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে তাঁর গ্রেপ্তারির প্রসঙ্গও এদিনের সভায় তুলে ধরেন সিজেপি নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্রেপ্তারির ভয় দেখিয়ে তাঁকে জাতীয় পতাকা তোলা থেকে বিরত করা যাবে না। দেশে জাতীয় পতাকা তোলার জন্য জেলে যাওয়ার ঘটনা শেষবার ব্রিটিশ আমলেই ঘটেছিল বলে কটাক্ষ করেন তিনি। অভিজিৎ হুঁশিয়ারি দেন, দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করলেও তিনি বারবার ফিরে এসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও এদিন সরব হন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, সরকার মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের পর এবার তাঁদের ভোটাধিকারও নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। সিজেপি নেতার মতে, বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ কার্যত নীরব ছিল, কিন্তু যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মানুষকে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে। আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা টেনে তিনি বলেন, আগের সরকার নিখুঁত না হলেও তখন দেশে বেশি গণতন্ত্র ছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার অধিকার ছিল।
সিজেপি-র বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির মদতে দেশকে অস্থির করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা এদিন সম্পূর্ণ খারিজ করে দেন অভিজিৎ দীপকে। পালটা তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আনেন। এছাড়া, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগও করেছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।