২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সোমবার, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাখাতে রাজ্য পেল ৯৫৫ কোটি টাকা

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ একশো দিনের কাজে দেশের সেরা রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম।  তবে রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্র সঠিক সময়ে টাকা পাঠাচ্ছে না। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৫টি জেলার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের তরফে চিঠি এসেছে বৃহস্পতিবার। এর পরেই কালবিলম্ব না করে ওই ১৫ জেলার জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।

নবান্নের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রের চাহিদামতো শর্তপূরণ করে নতুন ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠাতে হবে। যাতে কেন্দ্রের কাছে টাকা পেতে সমস্যা না  হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যকে শিক্ষাখাতে প্রায় হাজার কোটি  টাকা দিয়েছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: অনুদানহীন মাদ্রাসা গুলিকে সান্মানিক দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু নবান্নের

জানা গিয়েছে, ৯৫৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছে দিল্লি। সমগ্রশিক্ষা অভিযানের খরচ বাবদ এই টাকা দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। টাকার জন্য স্কুলশিক্ষা দফতরের নানান কাজ থমকে ছিল। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও মিলছিল না টাকা। অবশেষে প্রায় ৫ মাস পর এই টাকা মিলল।

আরও পড়ুন: গঙ্গাসাগর মেলা: নবান্নে বৈঠক করবেন মমতা, থাকবেন একাধিক দফতরের মন্ত্রী-সচিবরা

সূত্রের খবর, রাজ্যের তরফে নতুন শিক্ষানীতির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয়েছে, যার অধিকাংশই কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে মিলে গিয়েছে। অন্যদিকে মাস তিনেক আগে দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়ার জন্য অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মিলল টাকা।

আরও পড়ুন: বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, আটকে পড়া পর্যটকদের সহায়তায় নবান্নে খোলা হল কন্ট্রোল রুম

এমনিতেই অর্থসংকট চলছে রাজ্যের। তার ওপর ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠি চলে আসাকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না নবান্ন।

জানা গিয়েছে, এ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে লিখিতভাবেও অভিযোগ জানান গেরুয়া শিবিরের নেতারা। ১০০ দিনের কাজের জন্য দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা অন্য প্রকল্পে খরচ করা হচ্ছে, এমন নানা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে কেন্দ্র পর্যবেক্ষক দল পাঠায় রাজ্যে। সেই দলও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলে এবং রাজ্যকে তা শোধরানোর কথা বলে। রাজ্য কী কী করছে, তা জানিয়ে রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়।

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে সেই মতো রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তবে সেই রিপোর্টেও খুশি নয় কেন্দ্র। তা জানিয়ে গত ৩ নভেম্বর রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের ডিরেক্টর ধর্মবীর ঝা। শনিবার নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই চিঠিতে বলা হয়েছে রিপোর্ট সঠিকভাবে পাঠানো হয়নি।

আরও বিশদ রিপোর্ট পাঠাতে হবে। দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পং জেলার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র।

আর তাই ৪ নভেম্বর রাজ্যের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের কমিশনার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ১৫টি জেলার জেলাশাসককে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া ১৫টি জেলার ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ নিয়ে খুশি নয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই মর্মে চিঠি পাঠিয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সকলকে সেই সব নির্দেশ পালন করে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে নবান্নে নতুন করে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। সূত্রের খবর, ১০০ দিনের টাকা আদায় না হলে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার।

ট্যাগ :
সর্বধিক পাঠিত

মালদহে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ বিদেশি মাদক: পুলিশের জালে দুই আন্তঃরাজ্য পাচারকারী

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শিক্ষাখাতে রাজ্য পেল ৯৫৫ কোটি টাকা

আপডেট : ৫ নভেম্বর ২০২২, শনিবার

পুবের কলম প্রতিবেদকঃ একশো দিনের কাজে দেশের সেরা রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম।  তবে রাজ্যের তরফে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্র সঠিক সময়ে টাকা পাঠাচ্ছে না। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ১৫টি জেলার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের তরফে চিঠি এসেছে বৃহস্পতিবার। এর পরেই কালবিলম্ব না করে ওই ১৫ জেলার জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে নবান্ন।

নবান্নের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রের চাহিদামতো শর্তপূরণ করে নতুন ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ পাঠাতে হবে। যাতে কেন্দ্রের কাছে টাকা পেতে সমস্যা না  হয়, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যকে শিক্ষাখাতে প্রায় হাজার কোটি  টাকা দিয়েছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: অনুদানহীন মাদ্রাসা গুলিকে সান্মানিক দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু নবান্নের

জানা গিয়েছে, ৯৫৫ কোটি টাকা পাঠিয়েছে দিল্লি। সমগ্রশিক্ষা অভিযানের খরচ বাবদ এই টাকা দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। টাকার জন্য স্কুলশিক্ষা দফতরের নানান কাজ থমকে ছিল। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও মিলছিল না টাকা। অবশেষে প্রায় ৫ মাস পর এই টাকা মিলল।

আরও পড়ুন: গঙ্গাসাগর মেলা: নবান্নে বৈঠক করবেন মমতা, থাকবেন একাধিক দফতরের মন্ত্রী-সচিবরা

সূত্রের খবর, রাজ্যের তরফে নতুন শিক্ষানীতির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হয়েছে, যার অধিকাংশই কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে মিলে গিয়েছে। অন্যদিকে মাস তিনেক আগে দিল্লি সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়ার জন্য অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মিলল টাকা।

আরও পড়ুন: বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, আটকে পড়া পর্যটকদের সহায়তায় নবান্নে খোলা হল কন্ট্রোল রুম

এমনিতেই অর্থসংকট চলছে রাজ্যের। তার ওপর ১০০ দিনের কাজ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠি চলে আসাকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না নবান্ন।

জানা গিয়েছে, এ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে লিখিতভাবেও অভিযোগ জানান গেরুয়া শিবিরের নেতারা। ১০০ দিনের কাজের জন্য দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা অন্য প্রকল্পে খরচ করা হচ্ছে, এমন নানা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে কেন্দ্র পর্যবেক্ষক দল পাঠায় রাজ্যে। সেই দলও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলে এবং রাজ্যকে তা শোধরানোর কথা বলে। রাজ্য কী কী করছে, তা জানিয়ে রিপোর্টও জমা দিতে বলা হয়।

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে সেই মতো রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তবে সেই রিপোর্টেও খুশি নয় কেন্দ্র। তা জানিয়ে গত ৩ নভেম্বর রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের ডিরেক্টর ধর্মবীর ঝা। শনিবার নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই চিঠিতে বলা হয়েছে রিপোর্ট সঠিকভাবে পাঠানো হয়নি।

আরও বিশদ রিপোর্ট পাঠাতে হবে। দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পং জেলার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র।

আর তাই ৪ নভেম্বর রাজ্যের ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের কমিশনার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ১৫টি জেলার জেলাশাসককে। সেখানে বলা হয়েছে, রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া ১৫টি জেলার ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ নিয়ে খুশি নয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই মর্মে চিঠি পাঠিয়ে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সকলকে সেই সব নির্দেশ পালন করে ১৪ নভেম্বরের মধ্যে নবান্নে নতুন করে রিপোর্ট পাঠাতে হবে। সূত্রের খবর, ১০০ দিনের টাকা আদায় না হলে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার।