পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পোল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর ক্রাকোভের প্রধান চত্বরে এক বন্দুকবাজের অন্ধাধুন্ধ গুলিবর্ষণে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। এই নৃশংস হামলার পর পোল্যান্ড জুড়ে দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ ছদ্মবেশী সামরিক পোশাক এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা ২৪ বছর বয়সি এক পোলিশ যুবক কালো রঙের একটি সুবারু গাড়ি চালিয়ে ক্রাকোভের ওল্ড সিটির প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করে সেনাসংক্রান্ত অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে পথচারীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে সন্দেহভাজন আততায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন:
ক্রাকোভের ঘটনার তদন্তে নেমে পোল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওস্ট্রোউইক শ্চেতোক্সিস্কিতে অভিযুক্ত যুবকের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন গোয়েন্দারা। ওই বাসা থেকে আততায়ীর ৫৩ বছর বয়সি বাবা, ৫২ বছর বয়সি মা এবং ২১ বছর বয়সি বোনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের ভেতর থেকে আরও ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
পোল্যান্ডের প্রসিকিউটররা এই ঘটনাকে একটি ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৪ বছর বয়সি ওই পোলিশ যুবক সুদূর-ডানপন্থী চরমপন্থা-য় প্রভাবিত ছিল এবং হামলা চালানোর আগ্নেয়াস্ত্রটি আইনসম্মতভাবেই তার নামে কেনা ছিল।
আরও পড়ুন:
শনিবার মধ্যরাত থেকে পোল্যান্ডে দু’দিনের জাতীয় শোক শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ক্রাকোভের মেয়র স্থানীয়ভাবে পৃথক শোক ঘোষণা করে আগামী বুধবার পর্যন্ত শহরের সমস্ত সরকারি দফতরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রাকোভের প্রধান চত্বরের কিছু অংশ ঘিরে পুলিশ টেকনিশিয়ানরা তদন্ত চালিয়ে গেলেও শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে বাকি অংশ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।